বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

News Headline :
গঙ্গা-পদ্মা মেলবন্ধন সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনে সম্মাননা স্বারক পেয়েছেন ডা.স্বপ্নীল জৈন্তাপুর সীমান্ত হতে যুবকের লাশ উদ্ধার কুড়িগ্রামে ৩টি ইট ভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ১২ লক্ষ টাকা জরিমানা বন্ধুদের ছু রি ঘা তে প্রাণ হারিয়েছেন রাইসুল মুঠোফোন দিয়ে হত্যাকারীদের শনাক্ত করেন চাদগাঁও থানার পুলিশ মাহিকে ইঙ্গিত করেই স্বামী রকিব সরকার সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা মাদকসহ ৩ মাদকব্যবসায়ী আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন পুলিশ সদস্যদের মাদক সেবনের প্রমাণ পেলেই চাকরি থাকবে না-পুলিশের মহাপরিদর্শক উপশহরের এক গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ
চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার মো. লোকমান হেকিম

চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার মো. লোকমান হেকিম

চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার মো. লোকমান হেকিম

ত্বকের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত চুলের যত্ন নেয়া জরুরি। দৈনিক কিছু চুল স্বাভাবিক পড়ে যায় এবং একইভাবে কিছু চুল গজায়। কিন্তু চুল পড়া ও চুল গজানোর হারের সমতা যখন থাকে না তখনই চুল পাতলা হতে শুরু করে। দিনে ১০০ টি চুল পড়লে তা স্বাভাবিক। অনেক রকম ইনফেকশন, বিভিন্ন রোগ, ওষুধের ব্যবহার এবং খাদ্যের ভিন্নতার কারণে সাধরণত চুল পড়ে। তবে ৯৫ শতাংশ চুল পড়ার কারণ জিনগত বা বংশগত।

এ অবস্থাকে বলা হয় অ্যানড্রোজেন। চুল সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক। নারী-পুরুষ সবার সৌন্দর্যের জন্য চাই উজ্জল মসৃন চুল। চুল সুস্থ, সুন্দর, জটমুক্ত হলে মানানসই চুলের স্টাইলে মুখটা লাগবে আরো বেশি আকর্ষণীয়। স্মার্টনেস বেড়ে যাবে আরো বেশি। নিজেকে তাই আকর্ষণীয় ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করে উপস্থাপন করে তোলার জন্য চাই পুষ্টি সমৃদ্ধ চুল।

বর্তমান প্রতিযোগিতার ভীরে সামান্য কিছু সচেতনতা ও যত্ম আপনার চুলকে করবে আরো বেশি সুন্দর। চুল পড়া মানুষের জীবনে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ছোট বড় সবারই চুল পড়তে পারে। তবে যখন এই চুল পড়াটা অস্বাভাবিক পরিমাণে হয়, তখনই চুল পাতলা হয়ে আমাদের দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই চুল পড়ার কারণ জীবন চর্চার মাঝেই লুকিয়ে থাকে।

চলুন তাহলে জেনে নেই চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে- চুলপড়ার কারণ:

* ভেজাল খাবার হলো চুল পড়ে যাবার অন্যতম প্রধান কারণ। দেহে প্রচুর পরিমানে আয়রন ক্যালসিয়ামের অভাবের জন্যও চুল পড়ে যায়। আয়রন শরীরে রক্ত তৈরি করে। আর ক্যালসিয়াম চুল, দাঁত, হাড় মজবুত করতে রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাই দেহে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের অভাবে চুল পড়ে।
* মনোদৈহিক সমস্যা, পারিবারিক অশান্তি, গভীর রাত জেগে পড়া বা ল্যাপটপে ও ট্যাবে কাজ করা, গভীর রাত জেগে মোবাইল ফোন ও টিভি দেখা। এই কাজগুলোর জন্য চুল ঝড়তে পারে।
* সঠিক সময়ে খাওয়া, ঘুমানোর অভাব, অতিরিক্ত রৌদ্র ও ধূলাবালিতে থাকা, অতিরিক্ত মানসিক কষ্টে চুল পড়ে।
* রক্তে চিনির মাত্রা, হরমোনের অসাম্যাবস্থা, রক্তচাপের উঠানামার জন্যও চুল পড়ে যায়। বড় কোন অপারেশন, ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের কেমোথেরাপী দেয়ার পরেও চুল পড়ে।
* কেমোথেরাপী ছাড়াও কিছু ওষুধ আছে। যার পাশর্^প্রতিক্রিয়ায় চুল ঝড়তে পারে। দেহে উদ্ভিজ্জ আমিষের (ডাল, শিমের বিচি, শষ্য) তুলনায় প্রাণীজ আমিষ (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ) এর পরিমাণ বেড়ে গেলেও চুল ঝড়ে যায়। ওজন বেশি বা দেহে কোলেস্টেরল বেশি, এমন ব্যক্তিদের প্রাণীজের তুলনায় উদ্ভিজ্জ আমিষ বেশি পরিমাণে খাওয়া দরকার।
* মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রসাধনী, ভেজাল খাবার, দূষিত পানি, ভেজা চুল বেধে রাখার জন্যও চুল ঝড়ে যায়। বংশগত কারণও দায়ী। পারিবারিক কারণেও চুল পড়ে যায়। রক্তের সম্পর্কিত আত্মীয় স্বজনদের মাথার চুল কম থাকলে, কারো মাথার চুল ঝড়তে পারে।
* চুলে অতিরিক্ত রং, অতিরিক্ত শ্যাম্পু, অধিক সংখ্যকবার হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলেও চুল পড়ে যায়। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্ম দেয়ার পরে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ দানকালীন সময়েও সুষম পষ্টিকর খাবার এর অভাবে চুল পড়ে যায়।
* দেহের ওজন অতিরিক্ত হারে বেড়ে গেলে দেহের অধিকাংশ অংশগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা। সেক্ষেত্রে দেহের শিরা-উপশিরা এবং চুলের গোড়ার স্নায়ুগুলো সুষ্টুভাবে কাজ করতে পারে না।
তখনও চুল পড়ে যায়। চুলপড়ার প্রতিকার:
* নিয়মিত সবুজ, হলুদ সাক সবজি, মৌসুমী ফল, তিতা খাবার (চিরতার রস, করলা, নিম) খান। প্রতিদিন ২-২.৫ লিটার পানি পান করুন। বেশি পানি খেতে খারাপ লাগলে কমপক্ষে প্রতিদিন দুই লিটার পানি পান করুন। পানি জাতীয় খাবার খান বেশি করে, এতে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচল করবে। পুরো দেহে সঠিক ভাবে রক্ত চলাচল করলে, চুল পড়বে কম।
* দেহে রক্ত তৈরি হয়, এমন ধরনের খাবার বেশি খেতে হবে। সেই সাথে যোগ করুন ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার ( যেমন- দুধ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার)।
* নিয়মিত চুল এর পরিচর্যা করুন। অতিরিক্ত রৌদ্রের তাপ ও সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা করুন আপনার চুলকে।
* মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রসাধনী কখনোই ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের ক্ষতি হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ওজন সর্বদা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
* চুল পড়ে যাওয়া রোধ করা ও চুল ভালো করার জন্য বাজারে নানান রকম ওষুধ বিক্রি হয়। এসব ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত খাবেন না।
* বড় কোন অপারেশন এর পরে, মাতৃদুগ্ধকালীন সময়ে অবশ্যই আয়রন, ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খান।
* যেকোনো মাদকদ্রব্য, ধুমপান বর্জনীয়। সর্বদা হাসি খুশি থাকুন।
* যে কোন নেতিবাচক চিন্তা ও হতাশা চুল ঝড়ার জন্য দায়ী।
* চুলে কেমিক্যাল যতো কম ব্যবহার করা যায়, ততোই ভালো। চুলে অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলেও চুল ঝড়তে পারে।
* চুল ঠিকমতো আচড়াবেন। এতে চুলের প্রতিটি প্রান্তে স্নায়ুর কার্যপ্রবাহ সচল হবে। পুরো মাথাতে স্নায়ু প্রবাহ সঠিক হলো চুলের বৃদ্ধি ও বর্ধন হতে হবে।
* মেনোপোজ (মাসিক চিরতরে বন্ধ হওয়া) হবার পরে দেহে সঠিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও আয়রনের অভাবে প্রচুর পরিমাণে চুল ঝড়ে। তাই এই সময় ক্যালসিয়াম প্রতিদিন একটি করে খান এবং সেই সাথে প্রয়োজন প্রচুর পরিমানে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। তবে বেশি উপকারের আশায় অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন না। হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল ঝড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

* সপ্তাহে ৫ দিন প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘামের মাধ্যমে চুলের গোড়া পরিস্কার হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রকার তৈল (নারিকেল, যয়তুন ইত্যাদি) দিয়ে মাথা মেসেজ চুল পড়া, পাতলা হওয়া কমাতে পারে। গ্রীন চায়ের এন্টিঅক্সিডেন্ট চুল পড়া বন্ধে সহায়ক।
লেখক : চিকিৎসক-কলামিস্ট।

১১৪ বার পড়া হয়েছে।





© All rights reserved © risingsylhet.com
Design BY Web Home BD
ThemesBazar-Jowfhowo