
রাইজিংসিলেট- টেলিগ্রাম গ্রুপে চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার লেনদেন। গত এক বছরে টেলিগ্রাম হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের মূল সংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম। অনেক গ্রুপে সদস্য সংখ্যা ২০-৩০ হাজারের বেশি, যেখানে প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে থাকে দলীয় আলোচনা। এসব আলোচনায় কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজস্ব গ্রুপ তৈরি করে ভার্চুয়াল বৈঠকের নামে সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন। যদিও এসব বৈঠকে কার্যকর রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে বক্তৃতা ও আলোচনায় গুরুত্ব বেশি দেওয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি ও অনুপ্রবেশ
দলের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে যে, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমর্থকরা টেলিগ্রাম গ্রুপগুলোতে প্রবেশ করে কথোপকথন রেকর্ড করছে। এই রেকর্ড ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ধানমন্ডি ৩২-এর মতো গ্রুপে নেতাদের বিরুদ্ধে খোলামেলা অসন্তোষের পরপরই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।
শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারি: “রাস্তা নামুন, না হয় সরে দাঁড়ান”
বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা দলের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শুধু ভার্চুয়াল আন্দোলন দিয়ে চলবে না—রাস্তায় নামতে হবে। দলকে মাঠে সক্রিয় করতে প্রতিটি জেলা ও মহানগরে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, তথ্য পাচার ঠেকাতে দলের টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের ভিপিএন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিষিদ্ধ দলের রাজনীতি ও ২০২৬ সালের প্রস্তুতি
যদিও আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ দল হিসেবে বিবেচিত, তবুও দলটি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ এখন ‘ইউনূস সরকার’-এর বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তুলে প্রতিরোধ আন্দোলনে নামতে চাইছে।