দক্ষিণ সুরমায় জুয়ার আসর দিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরলো ভাঙ্গারী কাসেমের!

মে ৩০ ২০২২, ১৩:৩২

ভাঙ্গারী কাসেম ছবি- সংগৃহীত

রাইজিং সিলেট :: সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ভারতীয় শিলং-এর তীর খেলাসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিগত দিনে এসব অপরাধ প্রবনতা কমলেও বর্তমানে তা বিস্তার লাভ করে চলেছে।

তীর জুয়ার পাশাপাশি টিকটিকি নামীয় আরেক জুয়া ও তিন তাস জুয়া খেলার ব্যবসায় সয়লাব দক্ষিণ সুরমা এলাকা বাবনা পয়েন্টের জিঞ্জির শাহ’র মাজারের পাশে।

জুয়ার আস্তানা এই আস্তানার অপরাধ কর্মকান্ডের মুলহোতা ভাঙ্গাড়ী কাসেম।

মাদক (ইয়াবা) ও জুয়ার আসরের জন্য দক্ষিণ সুরমা ফেমাস হয়ে উঠেছে।

তবে ডজন ডজন জুয়ার মামলা হলেও থামছেনা জুয়াড়ীদের দৌরাত্ন।

সম্প্রতি র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে দক্ষিণ সুরমার বেশ কয়েকটি চিহ্নিত জুয়ার আসর বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি টেকনিক্যাল রোডের সাধুর বাজার বাঁশতলা জুয়া সম্রাটখ্যাত কাসেম উরফে ভাঙ্গাড়ী কাসেমের জুয়ার বোর্ড।

এদিকে পাড়া মহল্লার দোকানে জুয়ার আসর বসানোর প্রবনতা।

স্থানীয়রা জানান, প্রকাশ্যে জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উঠতি তরুনদের পাশাপাশি সমাজের মাতব্বর টাইপের যুবকরা এই জুয়াতে জড়িয়ে পড়েছে।

জুয়া সম্রাটখ্যাত কাসেম উরফে ভাঙ্গাড়ী কাসেম
প্রশাসনের কাছে বেশ কয়েকবার আটক হলেও বন্ধ হয়নি তার তীর জুয়ার আস্তানা। বর্তমানে কাসেম জামিনে বেরিয়ে আসলেও চাংগা করে তুলে তার আস্তানা।

কাসেমের স্ত্রীর নেতৃত্বে নদীর পাড়ে ভার্থখলা মাদ্রাসার পিছনে কুমিল্লা পট্টি রাস্তায় চলছে তীর জুয়ার নাম্বারিং টোকেন বিক্রি।

স্থানীয়রা আরো জানান, লক্ষীপুর জেলার গন্ডবপুর গ্রামের মৃত কালু মিয়ার ছেলে। আবুল কাসেম উরফে ভাঙ্গাড়ী কাসেম।

দীর্ঘ দিন থেকে দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্ট সংলগ্ন জিঞ্জুর শাহ (র.) মাজারের পাশে তীর জুয়া পরিচালনা করে আসছে।

ভারতীয় এ ভাগ্যের খেলায় টাকা হারিয়ে কপাল পুড়ছে স্কুল কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, দিনমজুর, রিক্সাচালক, যানবাহনের চালক-শ্রমিকসহ বেকার যুবক এবং যুবতীদের। রিক্সাচালকরা কঠোর পরিশ্রম করে যা টাকা রোজগার করে তা জোয়ার আসরে দিয়ে পকেট ফাঁকা করে চাল ডাল না নিয়ে ঘরে ফিরে ‘শিলং তীর’ আর তাস নামক জুয়ার ভয়ঙ্কর ছোবলে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

স্কুল পড়ুয়া ছেলেরা ক্লাস ফাকি দিয়ে বাসা থেকে টাকা নিয়ে অংশ নিচ্ছে ভারতীয় এ জুয়ায়। এতে করে ছাত্রদের মনযোগ বইয়ের পরিবর্তে তীর খেলার দিকেই বেশী ঝুঁকছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেও দমন করা যাচ্ছে না এ জুয়া। পুলিশ ধাওয়া করার পর-পরই আবার এ খেলায় জড়িয়ে পড়ছে জুয়াড়িরা।

কারণ গ্রামের ভাষায় একটি প্রবাদ আছে‘চুর কখনও ধর্মের কথা শুনেনা।

জুয়া সম্রাটখ্যাত কাসেম উরফে ভাঙ্গাড়ী কাসেমের আস্তানায় জুয়ার এখন পুরুষ-মহিলা, যুবক-যুবতীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ এজেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, লোকজন নিরাপদে খেলার নাম্বার টুকন বিক্রয় করছেন।

টুকন কেটে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিংবা তার কাসেমের বসানো নির্ধারিত লোকদের কাছে পাঠিয়ে দেন।

অভিযোগ রয়েছে। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার দিনের শুরুটা হয় শিলং তীর খেলা দিয়ে এবং শেষ হয় তাস তথা জোয়া খেলার মধ্য দিয়ে।