
প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে বিএনপির দুই নেতাকে। অভিযুক্ত হামলাকারী আবুল হোসেন (৪০) চরমানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিন মিয়ার ছেলে।
আহতরা হলেন- উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক মো. রেজাউল করিম খন্দকার (৪৮) ও একই থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু তাহের মাস্টার (৪০)।
রোববার (১৭ আগস্ট) বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ আইচা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
চরফ্যাশন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহত বিএনপি নেতা আবু তাহের বলেন, রোববার দুপুরে প্রভাষক রেজাউল করিম খন্দকার ও আমি তার বাসা থেকে বের হয়ে জোহরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে রওনা হলে বাসস্ট্যান্ড মোড়ে অস্ত্রধারী আবুল হোসেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিম খন্দকারকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। তাকে উদ্ধার করতে গেলে আমাকেও তার হাতের অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সে পালিয়ে যায়। আবুল হোসেন স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বাহিনীর ইন্ধনে সেখানে ওত পেতে ছিল। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার নেন। সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।’
তিনি বলেন, রেজাউল করিম খন্দকারের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রধারী আবুল হোসেনকে দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আবুল হোসেনের সঙ্গে আমার বা রেজাউল করিম খন্দকারের পূর্বে কোনো বিরোধ নেই। আমরা এই ঘটনায় অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক প্রিন্স মহাজন ও সদস্যসচিব জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম খন্দকারের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীরা আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে এঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা উপজেলা বিএনপি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করুন। আর যাতে কোনো অপরাধী এহেন কর্মকাণ্ড না ঘটাতে পারে সেই ব্যবস্থাও করুন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক নিঝুম নাহিয়া বলেন, মো. রেজাউল করিম খন্দকার ও আবু তাহের নামের দুজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের দুজনকে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রভাষক রেজাউল করিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার ৭টি স্থানে মারাত্মক ক্ষত হয়েছে এবং আবু তাহেরের একটি স্থান ক্ষত হয়। তাই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল হক ভুঁইয়া বলেন, বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এ ঘটনার পরপর অভিযুক্ত আবুল হোসেন পালিয়ে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।