raising sylhet
ঢাকাসোমবার , ১ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. অর্থনীতি
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আরো
  5. খেলার খবর
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরির খবর
  8. জাতীয়
  9. দেশের খবর
  10. ধর্ম পাতা
  11. পরিবেশ
  12. প্রবাস
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদ্যুৎ বন্ধ রাখায় কন্ট্রোল রুমে ঢুকে প্রকৌশলীকে মা র ধ র করেছেন কাউন্সিলর

rising sylhet
rising sylhet
এপ্রিল ১, ২০২৪ ১০:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিদ্যুৎ বন্ধ রাখায় কন্ট্রোল রুমে ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর করেছেন কাউন্সিলর।

শিলাবৃষ্টি ও ঝড়-তুফানের সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখায় কন্ট্রোল রুমে ঢুকে প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানাকে মারধর করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রায়হান হোসেনসহ আরও দুইজন।

 জানা যায়, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়-তুফানে ১১ কেভি ফিডার ফল্টের কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। এই বন্ধ লাইন চালু করতে কাউন্সিলর রায়হান হোসেন দুইজনকে নিয়ে বিনা অনুমতিতে কেপিআইভুক্ত কন্ট্রোল রুমে ঢুকে মাসুদ রানাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় সোমবার (১ এপ্রিল) সকালে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেছেন মারধরের শিকার প্রকৌশলী মাসুদ রানা। 

রবিবার (৩১ মার্চ) রাতে দক্ষিণ সুরমা বড়ইকান্দি এলাকার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩-এর কেপিআইভুক্ত কন্ট্রোল রুমে এ ঘটনা ঘটে। মো. মাসুদ রানা সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩-এর সহকারী প্রকৌশলী।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রায়হান হোসেনকে। এছাড়া বরইকান্দি এলাকার কাজী বায়েজিদ আহমেদ ও শাহাদাত হোসেন রওজাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজহারে বলা হয়, সোমবার রাত ১০টা থেকে একটা পর্যন্ত প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি ও ঝড়-তুফানের কারণে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩, বিউবো, সিলেট দপ্তরের ১১ কেভি ফিডার ফল্টের কারণে বন্ধ হয়ে দপ্তরের আওতাধীন বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ লাইন সচল করার জন্য দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নির্দেশে সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানাসহ দপ্তরের সকল উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও পালাবদলে কর্মরত কর্মচারীরা দপ্তরে উপস্থিত হন। ফিডার লাইন চালু করার জন্য মাসুদ রানাসহ উপ-সহকারী প্রকৌশলীরা দপ্তরের বড়ইকান্দি উপ-কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে অবস্থান করছিলেন। রাত প্রায় দেড়টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রায়হান হোসেনসহ আরও দুইজন বিনা অনুমতিতে কেপিআইভুক্ত কন্ট্রোলরুমে প্রবেশ করে দুটি চালু ১১ কেভি ফিডার (১১ কেভি কদমতলী ও ১১ কেভি স্টেশন ফিডার) বন্ধ করতে এবং ১১ কেভি বড়ইকান্দি ফিডার চালু করতে চাপ দিতে থাকেন। এ সময় সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা তাদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করেন, কোনো ফিডার বন্ধ বা চালু করার জন্য সুনির্দিষ্ট কারণ প্রয়োজন। ফল্ট লাইন চালু করলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, জান ও মালের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। 

 

কিন্তু এসব কথা না শুনে তারা সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানাকে হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। এবং ফল্টের কারণে বন্ধ হওয়া ১১ কেভি বরইকান্দি ফিডার জোরপূর্বক চালু করতে চাইলে তিনি মানুষের জীবন সংশয় ও নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের ফিডার চালু করা থেকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এতে কাউন্সিলর রায়হান হোসেনসহ তার দুই অনুসারী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিক আক্রমণ করেন।

 

এ ব্যাপারে সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, ‘কাউন্সিলর ফল্টের কারণে বন্ধ হওয়া ১১ কেভি বড়ইকান্দি ফিডার জোরপূর্বক চালু  করতে চাইছিলেন। কিন্তু এভাবে এই ফিডার চালু করলে অনেক সমস্যা হবে। মানুষের জানমালের ক্ষতি হবে। তাই আমি তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি। কিন্তু তিন আমার কোনো কথা না শুনে আমার উপর আক্রমণ করেন। আমাকে জামার কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে কন্ট্রোল রুমের বাইরে নিয়ে যেতে যেতে বলতে থাকে এলাকা তাদের, তাদের কথাতেই সব কিছু হবে, আমাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে মেরে পার্শ্ববর্তী সুরমা নদীতে ফেলে দেবে। উপস্থিত আমার সহকর্মীরা তাদের কোনোক্রমে নিবৃত করলে আমি প্রাণে বেচে যাই। কিন্তু যাওয়ার সময় আমাকে হুমকি দিয়ে যায় অফিসের আশেপাশে পেলে আমাকে মেরে ফেলবে। এরপর তারা একে একে মোটরসাইকেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী নিয়ে দপ্তরের সামনে অবস্থান করে।’

 

তিনি বলেন, ‘এ সময় বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, বিউবো, আম্বরখানা, সিলেট দপ্তরের আওতাধীন শেখঘাট ৩৩ কেভি ফিডারের ফন্ট মেরামতের জন্য আমার দপ্তরের ৩৩ কেভি বরইকান্দি ফিডার শাটডাউন নিলে সমগ্র অফিস প্রাঙ্গণ ও কন্ট্রোল রুম অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে তারা ভাবে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে লাইন বন্ধ করেছি এবং এজন্য তারা দ্বিতীয় দফায় এসে আমাকে গুম করে ফেলাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।’

 
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির বলেন, ‘এ রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি মাঠে থাকি আমরা। আমরাতো ঘরে বসে থাকি না। কিছু হলেই আমাদের স্টাফ, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই বের হয়ে কাজে লাগেন জনসাধারণের সেবার জন্য। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ তারপরও আমরা পিছপা হই না। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে গেলেই দপ্তরে এসে প্রকৌশলী কর্মকর্তা কর্মচারীদের মারধর করা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। রাতে এটা খুবই বাজে কাজ করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। তিনি দায়িত্বশীল পদে থেকে দায়িত্ব জ্ঞানহীনের মতো কাজ করেছেন। তিনি যদি এরকম মারমুখী হন তাহলে আগামীতে তার এলাকার জনগণও এ ধরনের কাজ করবেন। আমরা তো রাজনৈতিক সামাজিক কারণে এসব ব্যাপারে কঠোর হতে পারি না। কিন্তু এবার আমরা এসব কঠোর হস্তে দমন করবো।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রায়হান হোসেন বলেন, ‘মারামারি বা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে রাস্তায় পড়েছিল। সেই ছেড়া লাইন সরানোর জন্য আমরা তাদেরকে বলি। কিন্তু তারা সেটা রাতে সরাতে রাজি হয়নি

৯৪ বার পড়া হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।