
রাইজিংসিলেট- গত ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরের পতেঙ্গা থানা এলাকায় লাগেজ থেকে একটি খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি ছিলো মো. হাসান নামের ৬০ বছর বয়েসি এক বৃদ্ধের। পুলিশের বক্তব্য- ওই ব্যক্তির বর্তমান ছিলো ঠিকানা সিলেট সদর উপজেলার সাধুরবাজার সংলগ্ন রেলওয়ে কলোনি এলাকায়। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানরা মিলে তাকে হত্যা করে।
সেদিন মরদেহ মিললেও মাথা ছিলো বিচ্ছিন্ন। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চললেও মরদেহের মাথা এখনো পাওয়া যায়নি। রবিবার ও সোমবার (১ ও ২ অক্টোবর) ওই বৃদ্ধের অভিযক্ত পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে খণ্ডিত মাথা উদ্ধারে পতেঙ্গার ১২ নম্বর ঘাট এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টিম। কিন্তু হাসানের খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর পতেঙ্গা থানার ১২ নম্বর ঘাট এলাকায় সড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি লাগেজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল মানুষের শরীরের ৮টি খণ্ড। এর মধ্যে ছিল ২ হাত, ২ পা, কনুই থেকে কাঁধ এবং হাঁটু থেকে উরু পর্যন্ত অংশ। প্রত্যেকটি অংশ টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। তবে ওই লাগেজে ভুক্তভোগীর মাথা না থাকায় তাৎক্ষণিক পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদির বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদেরকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, খণ্ডবিখণ্ড এই মরদেহ পরিচয় শনাক্ত ও রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামেন পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা পিবিআই। তারা প্রথমে ফিঙ্গার প্রিন্টের সহায়তায় নিহত ব্যক্তি মো. হাসান (৬০) বলে শনাক্ত করেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী হাসান চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালীর উপজেলার কাথারিয়া এলাকার সাহেব মিয়ার ছেলে। তবে তার বর্তমান ঠিকানা সিলেট সদর উপজেলার সাধুরবাজার সংলগ্ন রেলওয়ে কলোনি এলাকায় বলে জানায় পিবিআই।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে আকমল আলী রোডের সেই বাসা থেকে হাসানের ছেলেকে বস্তায় ভরে মরদেহ বের করতে দেখা যায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়- ১৯ সেপ্টেম্বর হাসান, তার স্ত্রী ও দুই ছেলের অবস্থান বাসাটিতে ছিল। ওইদিনই সম্পত্তি লিখে দেওয়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে হাসানকে খুন করা হয়।
এদিকে, হাসানের খণ্ডিত মস্তক উদ্ধারে পুত্রবধূ আনারকলিকে নিয়ে দুদিন (রবি ও সোমবার) পতেঙ্গা থানার ১২ নম্বর ঘাট এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে পিবিআই। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালিয়েও হাসানের খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস খান বলেন, ১৫ জনের একটি টিম দ্বিতীয় দিনে অভিযানে অংশ নেয়।
পিবিআই সূত্র জানায়, দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘাট এলাকার পাথরের ফাঁকে, বালুর স্তুপের নিচে খণ্ডিত মাথা তল্লাশি করা হয়। সাগরে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে তল্লাশি কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়। পরে বৃষ্টি শুরু হলে অভিযান স্থগিত করা হয়। বৃষ্টি থামলে আবারো অভিযান শুরু হয়।
ঘটনার পরদিনই হাসানের শরীরের সব অঙ্গ উদ্ধার করা হলেও মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর একাধিকবার জোয়ার-ভাটা হয়েছে। এ কারণে বালিতে বা অন্য কিছুতে খণ্ডিত মাথা হয়তো চাপা পড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি সেটি উদ্ধার করতে। এটি উদ্ধার করা গেলে মামলা প্রমাণ করা আরও সহজ হবে।