মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

News Headline :
শাহরুখ খানরে নতুন সিনেমার গান গাইবেন সিনা শেষ পর্যন্ত মেসিই মায়ামিকে হার থেকে রক্ষা করেন মঙ্গলবার শুরু হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট করিম উল্লাহ মার্কেটে একটি দোকানকোঠা কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক প্রবাসী শাসকগোষ্ঠী আরও বেশি বেপরোয়া ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছে-মির্জা ফখরুল বিপুল পরিমাণ ট্রেনের টিকেটসহ ৫ ব্ল্যাকারকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ইতিহাস তৈরি করেছেন মরিয়ম পবিত্র শবে বরাতের দিনে পৃথক দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছে ভুলের খেসারত দিতে হবে-সেতুমন্ত্রী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে কঠোর বার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
সন্তান জন্মের ব্যয় মেটাতে কিডনি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন বাবা

সন্তান জন্মের ব্যয় মেটাতে কিডনি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন বাবা

রাইজিংসিলেট- সুনামগঞ্জে জগন্নাথপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যেম স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ব্যয় যোগাতে ব্যর্থ হয়ে কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিতে চেয়েছিলেন এক দিনমজুর। এজন্য তিনি এক  সাংবাদিকের সাথে যোগাযোগ করেন।

পরে ওই সাংবাদিকের উদ্যোগে পুলিশ সম্পৃক্ত হয়ে বিলের বেশিরভাগ মওকুফের ব্যবস্থা করে। জগন্নাথপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার জগন্নাথপুর  উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আছিমপুর গ্রামের দিনমজুর শামছুল হক সিজার অপারেশনের জন্য তার স্ত্রীকে উপজেলার সদরের নগর মাতৃসদন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। ভর্তির সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শামছুল হককে জানায় সব মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো বিল আসবে। তিনি তাতে রাজি হয়ে স্ত্রীকে ভর্তি করেন। পরে ওই রাতে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে এই দম্পতির ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

এদিকে, দুদিনে ক্লিনিকের বিল আসে ১৬ হাজার ৬৫০ টাকা। এরপর থেকেই শামছুল হক ক্লিনিকের বিলের জন্য আত্মীয়-স্বজনদের কাছে টাকা চাইতে শুরু করেন। শেষমেশ কোনো উপায় না পেয়ে সিদ্ধান্ত নেন নিজের কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেবেন।

পত্রিকায় কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপনের জন্য তিনি আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি জুয়েল আহমেদ সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিডনি বিক্রির কারণ জানতে চাইলে, তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন কিডনি বিক্রি করে ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করবেন।

শামছুল হক বলেন, ‘অভাবের সংসার। দিন আনি, দিন খাই। স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা চিন্তা করে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করি। ভর্তির সময় তারা বলেছিলেন বিল প্রায় ২০ হাজার টাকা মতো আসবে। তখন মনে করেছিলাম টাকা জোগাড় করতে পারব। কিন্তু নিজের স্বজনসহ অনেকের কাছে হাত পেতেও কোনো সাহায্য পাইনি। কোনো উপায় না পেয়ে সিদ্ধান্ত নেন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজের কিডনি বিক্রি করবেন।’

নগর মাতৃসদন ক্লিনিকের এমআইএস অ্যান্ড কোয়ালিটি এসোরেন্স কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ভর্তির সময় ওই ব্যক্তিকে অপারেশন বিল ১২ হাজার টাকা জানানো হয়। উনাকে আমরা বলেছিলাম সব মিলিয়ে বিল ২০ হাজার টাকার নিচে থাকবে। সেই অনুযায়ী বিল ১৬ হাজার ৬৫০ টাকা আসে। দুদিন পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসে কিডনি বিক্রির বিষয়টি জানালে মানবিক দিক বিবেচনা করে ৪ হাজার টাকা জমা নিয়ে বাকি টাকা মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।’

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি  সংবাদকর্মী মাধ্যমে জানতে পেরে ক্লিনিকে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। এরপর কর্তৃপক্ষে শামছুল হকের আর্থিক অবস্থার কথা জানাই। এতে তারা অপারেশনে ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও ওষুধের দাম দাবি করেন। পরে ওই দিনমজুরের কাছে থাকা ৪ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা মওকুফ করানো হয়।

১৩৬ বার পড়া হয়েছে।





© All rights reserved © risingsylhet.com
Design BY Web Home BD
ThemesBazar-Jowfhowo