২০০৪ সালের বন্যাকে টপকালো চলমান বন্যা

জুন ২০ ২০২২, ১৯:০২

এস এ চৌধুরী :: ২০০৪ সালের বন্যা কে অতিক্রম করেছে চলতি বন্যা।ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এই বন্যা দেখা দিয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ঘর বাড়ী রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে এই ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

নিরুপায় হয়ে অনেক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।আবার বেশির ভাগ মানুষই বাড়ী ঘর, গরু,ছাগল নিয়ে বাড়ীতেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সরজমিনে ঘুরে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার যেদিকে চোখঁ যায় শুধু পানি আর পানি থৈ থৈ করছে। মাইজগাও ইউনিয়নের পালিবাড়ী সড়ক আর বিল পানিতে একাকার হয়ে গেছে।রাস্তার উপর মাছ ধরতে দেখা যায় স্থানীয়দের।এছাড়াও পানির জন্য কর্মদা গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র উঠেছে।পানিতে তলিয়ে গেছে ধানী জমি বীজতলা,সব্জি খেত,মাছের খামার।ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অনেক ব্যাবসায়ী পানির জন্য ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন।আবার অনেকে পানি প্রবেশ ঠেকাতে বাড়তি দেওয়াল তৈরি করতে ও দেখা গেছে।ফেঞ্চুগঞ্জ হাসপাতাল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।সেখানে কোমর সমান পানি রয়েছে। পানি উঠায় বিয়ালী বাজার পল্লী বিদ্যুত কেন্দ্রের সাবস্টেশন গত রবিবার রাত ১২ টা থেকে বিদ্যুত বন্ধ করে দেয়া হয়। রবিবার সারাদিন কাজ করে বিকল্পভাবে বিদ্যুত চালু করা হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের প্রবিন ব্যাবসায়ী আজাদ মিয়া বলেন এই পানি আগের সব পানিকে ছাড়িয়ে গেছে।যেখানে কোন দিন পানি দেখিনি সেখানে ও পানি।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৭০ টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।তার মধ্যে ফরিদুপর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৪ টি ও চন্ডীপ্রসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ টি। এসব পরিবার কে সরকারের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে।চন্ডি প্রসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রিত শ্রীচরন রবিদাস বলেন আমাদের যে ত্রান দেওয়া হচ্ছে তা খুবই সামান্য।
ফরিদুপর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রিত বিজন চন্দ শীল বলেন আমরা এখানে আছি গতকাল থেকে ব্যাক্তি উদ্যোগে একজন আমাদের রাতে খাবার দিয়েছেন। দুপুরে ও খাবার দেয়ার কথা। বিকালে আমাদের সংসদ সদস্য আমাদের দেখতে আসার কথা রয়েছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাধন কান্তি সরকার বলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বন্যা কবলিত মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজার।এই সব মানুষের জন্য নগদ ১ লক্ক টাকা ও ২৫ মে: টন চাল এসেছে। যার মধ্যে গতকাল ৫০ হাজার টাকা ও ১০ মে: টন চাল বিতরন করা হয়েছে। বাকী গুলো বিতরন করা হবে।এছাড়া নগদ আর চার লক্ক টাকা সরকারের কাছে চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।