
চারদিনে দু’পক্ষের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের প্রদর্শনীই যেন দেখল বিশ্ব।তীব্র সংঘাতময় চতুর্থ দিন পার করতে চলেছে ইরান-ইসরায়েল। তবে, বিধ্বংসী শত্রুপক্ষের চোখে চোখ রেখে ইরান যেভাবে এখন পর্যন্ত জবাব দিয়ে যাচ্ছে, তা হয়তো কল্পনাও করেনি মার্কিন মদদপুষ্ট ইসরায়েল ও তাদের মিত্রপক্ষ।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে নজিরবিহীনভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে আয়রন ডোম। সর্বাধুনিক এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙেচুড়ে ইতোমধ্যে ইসরায়েলের একের পর এক শহরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে ডজন ডজন মিসাইল।
সোমবার (১৬ জুন) নিজ দপ্তর থেকে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই স্বীকার করেছেন, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে গত চার দিনে অন্তত ৩৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। ইসরায়েলের অন্তত ৩০টি সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এতে।
এ ছাড়া ইরানের শক্তিশালী হাইব্রিড হামলায় ইসরায়েলে ২৪ জন নিহত হয়েছেন এখন পর্যন্ত; সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৫৯২ জন।
র্যাপোপোর্ট আল জাজিরাকে বলেছেন, যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এটি (ইরানের হামলা) প্রত্যাশিত ছিল বলে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ইসরায়েলিরা বেশ অবাক যে এত ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের অভ্যন্তরে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কিছু কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতেও সফল হয়েছে এবং কিছু ঘটনা সম্ভবত জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের এমন ক্ষেপণাস্ত্রের বহর দেখে হতবাক হয়ে গেছে ইসরায়েল ও তাদের মিত্রপক্ষ, কারণ তাদের সর্বাধুনিক ও সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক প্রকার ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র। এমনই তথ্য জানিয়েছেন ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দ্য লোকাল কলের সম্পাদক মেরন র্যাপোপোর্ট।
সবচেয়ে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে গর্ব ছিল ইসরায়েলিদের, তা নিয়েও তাদের মধ্যে জেগে উঠেছে সন্দেহ। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের সাংবাদিক গিদেওন লেভি আল-জাজিরাকে বলেছেন, এমন হামলা চলতে থাকলে ইসরায়েলিরা একসময় শুধু ক্লান্ত আর ভীতই হবে না, একসময় যুদ্ধের পর তারা প্রশ্ন তুলবে। এভাবে তারা কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
লেভি আরও বলেন, একসময় আমরা শেষমেশ নিজেরাই প্রশ্ন করতে শুরু করব—এর কি কোনো মূল্য আছে? আমরা কোথায় যাচ্ছি? এক যুদ্ধ থেকে আরেক যুদ্ধে? এক গোলাবর্ষণ থেকে আরেক গোলাবর্ষণে? কারণ, এবারের পরিস্থিতি গাজা বা লেবাননের মতো নয়। এবার বেসামরিক জনগণের খেসারত হতে পারে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। তাই ইসরায়েল কয়েক দিন এটা সহ্য করতে পারবে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে নয়।
গত ১৩ জুন (শুক্রবার) ভোর ৪টার দিকে আকস্মিকভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮টি শহরে বড় ধরনের বিমান হামলা করে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও সামরিক বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামালা চালানো হয়েছিল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এ সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘দ্য রাইজিং লায়ন’। অতর্কিত এ হামলার পর শুক্রবার রাতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ সেনা অভিযান শুরু করে ইরান।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলায় ইরানের অন্তত ১০০টি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহত হয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘেরিসহ প্রথম সারির বেশ কয়েক জন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা।