
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করেছে। রবিবার (২৯ জুন) দুপুরে জনতার বাজারসহ আশপাশের এলাকায় এ চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, এর একদিন আগে শনিবার ভোরে নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গজনাইপুর গ্রামে নজর উদ্দিন (৪০) নামে এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে যায় পুলিশ। তখন গ্রামে মসজিদের মাইকে “ডাকাত প্রবেশ করেছে” বলে মাইকিং করা হয়, যার ফলে স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং নজর উদ্দিনকে ছিনিয়ে নেয়।
হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় পুলিশের একটি ভ্যান ও দুটি অটোরিকশাও ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরদিন যৌথ বাহিনীর অভিযানে মোট ১৩ জনকে আটক করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে ৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
আটককৃতরা হলেন:
ইকবাল হোসেন (৩১), দক্ষিণ গজনাইপুর
রোজেল মিয়া (২৫), পিরোজপুর
কাইয়ুম মিয়া (২২), দেওপাড়া
সোহেল আহমেদ (২৩), রামলোহ
আল আমিন (৬৬), পানিউমদা
মো. সাদেক মিয়া (৪২), শতক
পংকজ দত্ত (৪৩), দেওপাড়া
আবির আহমেদ জয় (১৯), রামলোহ
বানিয়াচং সেনা ক্যাম্পের কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, অভিযানে সেনাবাহিনীর একটি দল র্যাব ও পুলিশকে সহায়তা করেছে এবং আটককৃতদের নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে।