
রাইজিংসিলেট- বাংলাদেশের গ্লোবাল প্লাস্টিক চুক্তির খসড়া প্রত্যাখ্যান। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক প্রস্তাবিত গ্লোবাল প্লাস্টিক চুক্তির সর্বশেষ খসড়া প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় আরও শক্তিশালী ও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
২০২৫ সালের আগস্টে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তঃসরকারি আলোচনাসভা (INC-5.2)-এর দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এ অবস্থান স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে। জাতিসংঘ পরিবেশ পরিষদের সিদ্ধান্ত ৫/১৪ অনুযায়ী একটি আইনি বাধ্যতামূলক চুক্তি তৈরির লক্ষ্য থাকলেও, বাংলাদেশের মতে এই খসড়া সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খসড়াটি দুর্বল এবং অপর্যাপ্ত। এতে প্লাস্টিকের উৎপাদন, ব্যবহার ও নিষ্কাশনের পুরো জীবনচক্র, স্বাস্থ্যঝুঁকি, ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার, আন্তঃসীমান্ত দূষণ এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বরং স্বেচ্ছাসেবী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক প্লাস্টিক সংকটের গুরুত্বকে উপেক্ষা করে।
বাংলাদেশ জোর দিয়ে জানায়, একটি কার্যকর চুক্তিতে প্লাস্টিকের উৎপাদন, ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার এবং দূষণ নিঃসরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ জরুরি। প্রস্তাবিত খসড়া মূলত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামোকে প্রাধান্য দিলেও উৎপাদকদের দায়িত্ব নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে এবং ক্ষতিকর প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণে কোনো বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করেনি।
একই সময়ে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রীপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে, পরিবেশ ও পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিম্নপ্রবাহ অঞ্চলের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি আন্তঃসীমান্ত প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সার্কুলার অর্থনীতি বাস্তবায়ন, টেকসই পণ্যের নকশা উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান দুর্বলতা দূর করা এবং বর্জ্য খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি প্লাস্টিক দূষণের পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব তুলে ধরে, ক্ষতিকর প্লাস্টিক পর্যায়ক্রমে বন্ধে বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।