
সৌন্দর্যচর্চা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং নারীর জন্য এটি প্রয়োজনীয়।
বিশেষ করে লিপস্টিক, আইলাইনার, ফেসওয়াশসহ নিত্যব্যবহার্য কসমেটিক্স সামগ্রী। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব বিদেশি প্রসাধনসামগ্রীর শুল্কায়ন মূল্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকদের খরচ বাড়বে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে ভোক্তার পকেটে।
লিপলাইনার, আইলাইনার, ফেসওয়াশ, বিউটি ব্লেন্ডার, মেকআপ কিটসহ অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম মূল্য বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদেশি কসমেটিক্স পণ্যের আমদানিতে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য দ্বিগুণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে প্রতি কেজি লিপস্টিক আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য ধরা হয় ২০ ডলার। নতুন প্রস্তাবে সেটি বাড়িয়ে ৪০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। কিছু প্রসাধনসামগ্রীর ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ৩৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। ফলে, হাত, নখ, পায়ের প্রসাধন সামগ্রী, লিপস্টিক, চুল পরিচর্যা সামগ্রী সহ বিভিন্ন পন্যের দাম বাড়তে পারে।
কেন এই পরিবর্তন? সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই এই শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদকদের উৎসাহিত করাও এই নীতির একটি উদ্দেশ্য।
তবে অনেকেই বলছেন, প্রসাধনী শুধুই বিলাসপণ্য নয়, এটি অনেক নারীর দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমাজের বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যের দিকটিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
দেশীয় পণ্যের ওপর তেমন প্রভাব নেই-তবে এই প্রস্তাব শুধু আমদানি করা প্রসাধনসামগ্রীকে লক্ষ্য করে আনা হয়েছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কসমেটিক্স পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক বা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিবর্তনের কোনো প্রস্তাব নেই। ফলে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর পণ্যের দাম স্থির থাকতে পারে, যা স্থানীয় শিল্পের জন্য একটি সম্ভাব্য সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।