
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে বিপুল পরিমাণ টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারের সাথে এবার মিলল বেশকিছু চিরকুট। সেগুলোতে কেউ অফিসের শত্রুর চাকরিচ্যুতি, ভালোবাসার মানুষের প্রতি অনুভূতি, কাঙ্ক্ষিত চাকরিসহ নানান কথা লিখেছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে মসজিদের দানবাক্স খোলার পর এমন অভিনব লেখা চিরকুট পাওয়া যায়।
আল্লাহর কাছে বিশেষ এক আকুতি জানিয়ে বেনামে এক চিঠি দিয়েছেন গ্রাম পুলিশ। চিঠিতে লেখা রয়েছে, হে আল্লাহ, মালিক আমি একজন সাধারণ গ্রাম পুলিশ। আমার বেতন মাত্র …. টাকা। আল্লাহ তাও আমার আপনার দরবারে অর্থ সম্পদ টাকা পয়সা কোনো কিছুই চাওয়ার নাই। শুধু আপনার কাছে আমার একটাই দরখাস্ত। মালিক আপনি আমার ছেলেরে প্রতিবন্ধী বানিয়েছেন। মানুষের কোনো গুণাগুন আল্লাহ আপনি তার মধ্যে দেন নাই।
তিনি চিঠিতে আরও লিখেন, আল্লাহ আমরা আর তার দেওয়া জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না। অতি দুঃখের সাথে আপনার দরবারে ফরিয়াদ করছিগো মালিক, …। আমিন।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
এছাড়া এ সময় বিপুলসংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর দানবাক্স খোলা হয়। এ কারণে এবার নতুন করে বসানো হয়েছে আরো তিনটি দানবাক্স।
এর আগে চার মাস ১২ দিন পর চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া যায়।
এ ছাড়া পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এরশাদুল আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।