
ঘাস কাটতে গিয়ে সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন আজিজুল হক পাইক (৬৫) নামে এক কৃষক। পরে সাপটিকে কাস্তের আঘাতে মেরে পলিথিনে ভরে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি। সাপটি বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার বলে জানান চিকিৎসক।
রোববার (২৯ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রাজ্জাক।
জানা যায়, শনিবার বিকালে সখিপুর চরভাগা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজিজুল হক পাইক শনিবার বিকেলে মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় তার হাতে একটি রাসেলস ভাইপার সাপ কামড় দেয়। পরে তিনি সঙ্গে থাকা কাস্তে দিয়ে দ্রুত সাপটিকে দেহ থেকে আলাদা করে ফেলেন। এরপর পলিথিনে ভরে সাপটি নিয়ে দ্রুত নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ছুটে আসেন। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
জোহরা মিলা বলেন, এই সাপের বিষ ‘হেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পঁচেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সাপটির কবল থেকে বাঁচতে সচেতনতাই কার্যকর পথ। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী সাপটি সংরক্ষিত।
‘এটি দুর্লভ প্রজাতির একটি সাপ। কিছু বছর পূর্বে শুধু বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে এ সাপের দেখা মিলত। কিন্তু বর্তমানে এরা পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলা ও চরগুলোতেও বিস্তার লাভ করেছে,’ যোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এক ব্যক্তি শনিবার সন্ধ্যায় রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে আসেন। তাকে ওই সাপটি কেটেছে বলে জানান। পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি পর্যবেক্ষণে আছেন।
তিনি বলেন, পদ্মার চরাঞ্চল, নদী অববাহিকা ও বরেন্দ্র এলাকায় উঁচু-নিচু ঘাস বা ফসলের জমিতে এই সাপটি বেশি দেখা যায়। সাধারণত জুন-জুলাই মাসে এর প্রজননকাল। সাপটি ডিম দেওয়ার বদলে সরাসরি ৬-৬৩টি বাচ্চা প্রসব করে। দেখতে মোটা, লম্বায় ২ থেকে ৩ ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এই সাপের গায়ে ছোপ-ছোপ গোলাকার কালো দাগ থাকে। ঘন ঘন জিহ্বা বের করে হিসহিস শব্দ করে। সাপটি সম্পর্কে যার ধারণা নেই তিনি এটিকে অজগর ভেবেই ভুল করবেন।
রাসেল ভাইপার সম্পর্কে তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক এবং বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা জানান, রাসেলস ভাইপার সাপটি ‘চন্দ্রবোড়া’ বা ‘উলুবোড়া’ নামেও পরিচিত। আইইউসিএনের ২০১৫ সালের লাল তালিকা অনুযায়ী রাসেলস ভাইপার বাংলাদেশে সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। এটি ইঁদুর ও টিকিটিকি খায়। ফসলের ক্ষেত ও বসতবাড়ির আশেপাশে প্রাণীদুটির প্রাচুর্যতা বেশি থাকায় খাবারের খোঁজে রাসেলস ভাইপার অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে এবং মানুষকে দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কখনও কখনও আক্রমণও করে।