
রাইজিংসিলেট- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গঠিত একটি নতুন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক নিবন্ধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দলটি ২৫টি উপজেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটার সদস্য (প্রতিটিতে ন্যূনতম ২০০ জন) সংগ্রহ করতে পারেনি। এ ছাড়া তাদের আবেদনপত্রে একাধিক ত্রুটিও চিহ্নিত হয়েছে।
এই ২৫টি উপজেলার মধ্যে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় এনসিপি পেয়েছে মাত্র ১৮১ জন ভোটার, এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৮৬ জন ভোটার। উভয় ক্ষেত্রেই এটি ইসির নির্ধারিত সংখ্যানুযায়ী অপর্যাপ্ত।
এ ছাড়া সিলেট জেলা কার্যালয়ের ভাড়া সংক্রান্ত চুক্তিপত্রে দলের নাম উল্লেখ নেই, যা আবেদনপত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, নিবন্ধনের জন্য যেসব তথ্য ও শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, অধিকাংশ দলের আবেদনেই ঘাটতি রয়েছে। তাই এসব ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রতিটি দলকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দলের আবেদনে থাকা বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ত্রুটি তুলে ধরা হয়। উল্লেখযোগ্য ত্রুটিগুলো হলো:
প্রয়োজনীয় উপজেলা ও থানায় নির্ধারিত সংখ্যক ভোটার সদস্য পাওয়া যায়নি। কিছু ক্ষেত্রে একাধিকবার একই ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আবার কিছু বইয়ে ভুল থানার ভোটার যুক্ত করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট কিছু উপজেলায় সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সংযুক্ত নেই (যেমন: ডিমলায় প্রায় ২০ জনের এনআইডি নম্বর অনুপস্থিত)।
দলের গঠনতন্ত্রে সংসদীয় প্রার্থী মনোনয়নের পদ্ধতি স্পষ্ট নয়।
দলপ্রধানের স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ নেই যে, দলে কোনো যুদ্ধাপরাধী বা সংবিধানবিরোধী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত নেই।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যেসব উপজেলায় ২০০ জনের কম ভোটার সদস্য পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে:
নলছিটি: ১৭৫, হবিগঞ্জ সদর: ১৮১, পলাশ: ১৯৩, কালিয়া: ১৮৪, জলঢাকা: ১৫৮, সোনাগাজী: ১৮৮, কসবা: ১৩৬, মাদারগঞ্জ: ১০৮, সরিষাবাড়ী: ১৭৬, ধনবাড়ী: ১৮৫, গঙ্গাচড়া: ১৬৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর: ১৬৯, মধুপুর: ১৪৭, আজমিরীগঞ্জ: ১৮৬, ধামরাই: ১৭৪, কর্ণফুলী: ১৫৭, সাভার: ১৩০, ভেদরগঞ্জ: ১৪৯, মনোহরগঞ্জ: ১৪৬, উত্তরা পশ্চিম: ১৬৯, ঈশ্বরগঞ্জ: ১৯৫ বনানী: ১৯৪, বাঁশখালী: ১৩৬, পবা: ১৮০, ডিমলা: ১৯৪
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর আবেদন আহ্বান করে ইসি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২২ জুন পর্যন্ত করা হয়। এ সময়ে মোট ১৪৪টি দল থেকে ১৪৭টি আবেদন জমা পড়ে।
ইসি জানিয়েছে, সকল দলের আবেদনের ত্রুটি যাচাই করে চিঠি দেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধিত তথ্য না পেলে সেই দল নিবন্ধনের অযোগ্য বিবেচিত হবে।