
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ৩০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। খবর রয়্যা নিউজের।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান এলাকায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ‘সফল’ হামলা চালিয়েছে। তার কিছুক্ষণ পর থেকেই ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্টা হামলা শুরু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব হামলা মূলত ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোর দিকে চালানো হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি, তবে এমন ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
এদিকে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবসহ ১০টি স্থানে ইরানের রকেট ও শার্পনেল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা বিভাগ। এটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের ঘটনার পর প্রথম। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে যদি কূটনৈতিকভাবে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ না নেওয়া হয়।
ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে রকেট ও শার্পনেল ইসরায়েলের ১০টি স্থানে পড়েছে। এই এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কারমেল, হাইফা, তেল আবিব অঞ্চল এবং উত্তরের উপকূলীয় সমতলভূমি।
তিনি আরও জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইসরাইলে ১১ জন আহত হয়েছেন এবং তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের মধ্যে একজন শার্পনেলের আঘাত পেয়েছেন, আর বাবি ১০ জন স্বল্পমাত্রায় আহত হয়েছেন।
জানা যায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সবশেষ আঘাতের খবরে ইসরাইলের জরুরি সেবাকর্মীরা ১০টি স্থানে ছুটে গেছেন এবং উদ্ধার কাজ করছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
এ ছাড়া ইসরাইল ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত জর্ডানেও সতর্কসংকেত বাজতে শোনা গেছে।
জেরুজালেমে অবস্থানরত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, শহরের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ভিডিওতে একাধিক বস্তু আকাশে উড়তে দেখা গেছে।