
রাইজিংসিলেট- কাঠের তৈরি হলেও মরিচা ধরা লোহার পিলার ও রেল পাটির ওপর বসানো হয়েছে ফাঁকা ফাঁকা কাঠের সারি। দেখতে মনে হয় পরিত্যক্ত কোন সেতুর ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে। এটি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের চিত্রানদীর উপর নির্মিত কলকলিয়া-মায়েরখালী কাঠের সেতু। জরাজীর্ণ এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হয় কয়েক হাজার কর্মব্যস্ত মানুষ। একযুগ ধরে এমন নাজুক অবস্থা চলে আসলেও দেখার যেন কেউ নেই ।
ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়েই মায়েরখালি, কলকলিয়া, গোয়ালখালী, কাঠালবাড়ি, বানিয়াখালীসহ ১০টি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করে থাকে। ফকিরহাট উপজেলা সদর ও জেলা শহরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করেন পেশাজীবী মানুষ । এছাড়া সেতুটির একপাশে থাকা কলকলিয়া গুরুচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যেন দুর্ভোগের শেষ নাই। নাজুক এই সেতু দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার সময় মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বারবার আশ্বাস পেলেও অদ্যাবধি সংস্কার হয়নি সেতুটি। অতিদ্রুত সেতুটি পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে বারবার আবেদন করেও কাঠের সেতুটি পুনঃনির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এলাকার লোকজন নিজেরাই চাঁদা তুলে বারবার সাময়িক সংস্কার করেছেন কিন্তু স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান জানান, ফকিরহাট উপজেলার কাঠের সেতুটির স্থানে ৫৫ মিটার দীর্ঘ আরসিসি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য নকশা তৈরির কাজ চলছে। অচিরেই এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।