
রাইজিংসিলেট- ৩টি শর্তে মিলতে পারে পিতৃত্বকালীন ছুটি। পিতৃত্বকালীন ছুটি প্রয়োজন না হলেও কিছু শর্ত মানলে তা দেয়া যেতে পারে—এমন মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
১৮ আগস্ট রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি বলেন, যদি পিতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয়, তাহলে তা হতে হবে শর্তসাপেক্ষ।
তিনটি প্রস্তাবিত শর্তের মধ্যে রয়েছে:
১. শিশুর যত্নে বাবার ভূমিকার লিখিত বিবরণ
২. মায়ের প্রতি সহায়তার তথ্য
৩. শিশুর সঙ্গে সময় কাটানোর বিস্তারিত বিবরণ
তিনি বলেন, পিতৃত্বকালীন ছুটি চাইলে শুধু চাওয়া যথেষ্ট নয়—দায়িত্বের প্রমাণ দিতে হবে।
মাতৃদুগ্ধ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, শিশুদের গুঁড়ো দুধের বিকল্প নয়, মাতৃদুগ্ধই সেরা। এর প্রসারে শুধু সরকার নয়, সমাজের সব স্তরের—এনজিও, ইমাম, পুরোহিত, গির্জা ও মিডিয়ার—ভূমিকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস কে রায়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রথম ছয় মাসে একচেটিয়াভাবে মাতৃদুগ্ধপানের হার ২০১৭-১৮ সালে ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে নেমে এসেছে ৫৮ শতাংশে। সচেতনতার অভাব, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা ও কর্মজীবী মায়েদের ছুটির অভাবকে এই পতনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সরোয়ার বারী বলেন, “মেধাসম্পন্ন জাতি গড়তে হলে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
এর আগে, ১৭ আগস্ট নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে যে পূর্ণ বেতনে দুই সপ্তাহের পিতৃত্বকালীন ছুটির জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হোক।