ঢাকাবুধবার , ৬ ডিসেম্বর ২০২৩
  1. অর্থনীতি
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আরো
  5. খেলার খবর
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরির খবর
  8. জাতীয়
  9. দেশের খবর
  10. ধর্ম পাতা
  11. পরিবেশ
  12. প্রবাস
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিভাবক মনে করছে নতুন শিক্ষাক্রমের কারনে শিক্ষার্থীরা ডিভাইস মুখী হচ্ছে বইয়ের প্রতি বিমুখ হচ্ছে

rising sylhet
rising sylhet
ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ads

অধিকাংশ অভিভাবক মনে করছে নতুন শিক্ষাক্রমের কারনে শিক্ষার্থীরা ডিভাইস মুখী হচ্ছে এবং বইয়ের প্রতি বিমুখ হচ্ছে। এই ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?

প্যাক প্যাক করা ভিডিও আর নতুন কারিকুলাম নিয়ে কি ঘটছে?

সম্প্রতি এনসিটিবি’র দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তি নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে চিন্তাভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এনসিটিবি’র বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ভিডিও চিত্রের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্যণীয়। এ প্রসংগে অভিমত জানতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কুল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষক বক্তব্য দিতে তাদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা বলছেন, বস্তুবাদী চিন্তা চেতনা থেকে এই কারিকুলাম তৈরী। কাজেই মঙ্গলের চেয়ে অমঙ্গলের আশঙ্কাই বেশী। অনেকে আবার কৌশলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। এই নতুন কারিকুলাম আসলে কি শিখাবে? প্যাক প্যাক ভিডিও ভাইরাল ঘটনা এসব কেন হচ্ছে? এ প্রসংগে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের বক্তব্য ও চিন্তা চেতনা নিয়ে প্রতিবেদন।

মার্কিন প্রবাসী শিক্ষানুরাগী ; আমেরিকা প্রবাসী শিক্ষানুরাগী আবদুল বাছিত বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রমে রেভ্যুলূশুনারী চেঞ্জ অথবা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার আকস্মিক আমূল পরিবর্তন ও রূপান্তর, সাহসী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ ! আমি এ অত্যাবশ্যকীয় পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই !! কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন ছিল শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সত্যিকার উন্নয়নে কাজ করছে, এমন ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে জাতীয় কমিটি গঠন ও দীর্ঘ গবেষণা, তারপর ইমপ্লিমেন্টেশন। কিন্তু আন্তরিক এবং নেক-নিয়তবিহীন ইম্পোর্টেড কপি-পেস্টের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই প্রজেক্টে, পরিবর্তন সংক্রান্ত কর্মযজ্ঞে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ব্যতিরেকে, প্রকৃত কল্যাণ যে অধরাই থেকে যাবে তা বলাই যায়।

ফিনল্যান্ড আর বাংলাদেশ মননে-মানসিকতায়, আর্থ-সামাজিকতায় যোজন যোজন মাইল দূরে তা কি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কর্তা ব্যক্তিরা জানেন না ? জেনে শুনে এ পথে দৌঁড়ানোর মাঝে, আর্থিক ফায়দা হাসিল করাই যে প্রকৃত উদ্দেশ্য তা বলাই যায়। মন্ত্রনালয় এবং শিক্ষা বিষয়ক সর্ব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা, দুর্নীতি কবলিত অসৎ লোক দ্বারা আচ্ছাদিত। মাননীয় মন্ত্রনালয় প্রধান, প্রথমে শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠান সংস্থা এবং পদ্ধতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনুন, যাতে অন্তত মানুষের একটু হলেও আস্থা ফিরে আসে। তারপর শিক্ষক শিক্ষিকা কোন মানের শিক্ষা পেয়েছেন, কিরকম মূল্যবোধ রক্ষণশীলতা বা আধুনিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন, রাতারাতি আকাশ পাতাল পরিবর্তন কতটা তাঁরা এডপ্ট করতে পারবেন, শিক্ষকদের পাঁচ শতাংস কি ব্যাঙের নাচ আত্বস্থ করতে পারবেন নাকি লজ্জায় জড়তায় আভিষ্ট হয়ে, জীবন জীবিকার জন্য বাধ্য হয়ে এ বোঝা মাথায় নিবেন, জাপান ফিনল্যান্ডের শিক্ষক-শিক্ষিকার আর্ট বডি-ল্যাঙ্গুয়েজ স্বাভাবিক আচরণের সাথে, আমার শিক্ষক-শিক্ষিকার সামাজিক অবস্থার কতটা ফারাক, দয়া করে তা একটু হলেও বিবেচনায় রাখবেন।

ইউরোপ আমেরিকার দরকার নেই, আশপাশের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ফলো করলেই যথেষ্ট হবে।আশপাশের কৃষ্টি কালচারের সাথেও আমাদের যথেষ্ট মিল রয়েছে। আমরা শ্রমিক রপ্তানী করে যে রেমিট্যান্স আয় করি, পাশের দেশের দক্ষ মেধাবী জনবল, আমার দেশের মিল-ফ্যাক্টরীতে উচ্চ পদে কাজ করে সেই রেমিট্যান্স কেড়ে নিচ্ছে কেবল তাঁদের এক্সপার্টনেসের বদৌলতে। কি করে তাঁরা দক্ষ হলো আর আমরা শ্রমিক থেকে গেলাম সেদিকে নজর দেন, দয়া করে আল্লাহর ওয়াস্তে একটু ভাবেন । আপনারা নীতি নির্ধারকরা অনেক বিদ্যান অনেক জ্ঞানী অনেক স্মার্ট ! কিন্তু তা দেশের সমাজের রাষ্ট্রের কোন কাজে এসেছে ? সব জ্ঞান ব্যবহার করছেন আপনাদের পেট ভরাবার কাজে, কিন্তু আর কত ?? ১৯৭২ এর সংবিধান আর ডঃ কুদরত-ই-খুদা শিক্ষানীতি, এই দুটি জিনিসকে ও যদি আমরা নিজ স্বার্থে গিলে খাবার ধান্ধা না করতাম, তাহলে বহুদূর যেতে পারতাম ! আর যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেম ও আমানতদারীত্বের সাথে, প্রকৃত কল্যাণের সহী নিয়তে ঘষামাজা করতাম, তাহলে উন্নত একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসাবে, স্বগৌরবে বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াতাম।

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে কথা বলছেন এই শিক্ষাক্রমের সাথে যুক্ত থাকা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর জফির উদ্দিন সেতু বলেন, নোট-গাইড আর কোচিংয়ের কবল থেকে মুক্তির পথ তৈরির সম্ভাবনা হচ্ছে। সবমিলে শিখনফলকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যোগ্যতাভিত্তিক শিখনফলের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

নতুন শিক্ষাক্রমের কিছু বিষয় নিয়ে অভিভাবক এবং সামাজিক যোগাযোগ অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই ব্যাপারটা কিভাবে দেখছেন ? জানতে চাইলে জফির উদ্দিন সেতু বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমটা খুবই যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্রাক্রম। যারা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন তারা নতুন শিক্রাক্রম সম্পর্কে অনেক জিনিস না জেনে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করছে।আমরা মূলতো মুখস্থ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান যুগের পরিপ্রেক্ষিতে যুগোপযোগী যুক্তিনিষ্ঠ, বিজ্ঞানমনস্ক ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলার জন্য যে ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি দরকার সে ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছি। নতুন শিক্ষাক্রম সম্পর্কে ভালো করে যাচাই-বাচাই করে বিরোধী করা উচিত।এই পদ্ধতি দক্ষতা নির্ভর পদ্ধতি।

জফির উদ্দিন সেতু বলেন, আপনি দেখে থাকবেন,আমাদের বইগুলো আগের তুলনায় এখন অধিক বাস্তবসম্মত। অতি আগ্রহী দুই একজন শিক্ষক হয়তো পাঠদানের ক্ষেত্রে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।যার ফলে ভুল বুঝা হচ্ছে।

নতুন শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় প্রসংগে তিনি বলেন,এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। যেখানে যেখানে হাজার হাজার শিক্ষক সম্পৃক্ত। সকলের যোগ্যতা সমান না।গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে নতুন শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা সত্যি ই চ্যালেঞ্জিং।শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না দিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নতুন শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে আমাদের আউটকাম কি আসবে? জানতে চাইলে প্রফেসর সেতু বলেন,আমাদের নতুন শিক্ষা পদ্ধতিতে যুগোপযোগী ও দক্ষতা নির্ভর।আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি দক্ষতা নির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমাদের উন্নয়ন জ্যামেতিক হারে বেড়ে যাবে।

সৎপুর কামিল মাদরাসার প্রভাষক শাহীদুল মুরছালীন নতুন শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন। সাবলীল কথা জানিয়েছেন জাতিকে – সংশ্লিষ্ট সকলকে।

তিনি বলেন, নতুন শিক্ষা কারিকুলামের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও এর বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলো জাতির সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যাতে সচেতন জনগণ সুচিন্তিত পরামর্শ প্রদান করতে পারে। শিক্ষকদের ইনডোর প্রশিক্ষণের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে না আসে সেদিকে কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। শিক্ষকরা যাতে হাসি-তামাশার উপলক্ষ না হয়।

প্যাক প্যাক নাচ ডান্স প্রসংগে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের জড়তা দূর করতে প্রশিক্ষণ শিডিউলের ফাঁকে ফাঁকে যেসব বিনোদনমূলক সেশন পরিচালিত হয় সেসবের স্থিরচিত্র বা ভিডিও চিত্র ধারণ ও প্রকাশ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। এতে করে বিরূপ সমালোচনার সুযোগ বন্ধ হবে।

সূত্র দৈনিক প্রভাত বেলা ,,,

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।