
রাইজিংসিলেট- অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হতে পারে এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগসহ নানা সুবিধার কারণে অস্ট্রেলিয়া দিন দিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও তথ্য জেনে আবেদন করলেই এই স্বপ্ন সফল করা সম্ভব।
কেন অস্ট্রেলিয়ায় পড়বেন
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেকগুলোই বিশ্বের শীর্ষ ১০০-এর তালিকায় রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করে।
এছাড়া, শিক্ষার্থী হিসেবে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ এবং শিক্ষাজীবন শেষে ২ থেকে ৪ বছরের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার সুবিধা রয়েছে।
আবেদনের ধাপসমূহ
১. কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে কোন বিষয়ে পড়তে চান এবং সেই অনুযায়ী উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করতে হবে।
২. ভর্তি আবেদন
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হলো:
একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশিট
ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ (IELTS বা PTE স্কোর)
পার্সোনাল স্টেটমেন্ট (SOP)
রেফারেন্স লেটার
পাসপোর্টের কপি
আবেদন গৃহীত হলে বিশ্ববিদ্যালয় অফার লেটার প্রদান করে। প্রথম সেমিস্টারের ফি পরিশোধের পর ইস্যু করা হয় Confirmation of Enrolment (COE)।
৩. ভিসা আবেদন (Subclass 500)
COE পাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে অস্ট্রেলিয়ান ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে গিয়ে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে:
COE
GTE (Genuine Temporary Entrant) বিবৃতি
ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট ডকুমেন্ট
হেলথ ইনস্যুরেন্স (OSHC)
মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট
পাসপোর্ট, ছবি এবং আবেদন ফি (প্রায় ৭১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার)
ভিসা প্রসেসিং সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় নেয়।
শিক্ষা ব্যয় ও বৃত্তির সুযোগ
টিউশন ফি কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে বছরে ২০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মধ্যে হতে পারে। বসবাস, খাবার ও অন্যান্য খরচ বাবদ বছরে আনুমানিক ২১,০০০ ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ অফার করে থাকে, যা পুরো বা আংশিক টিউশন ফি কভার করতে পারে।
পড়াশোনা শেষে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার আওতায় ২-৪ বছর কাজের অনুমতি পান। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের (PR) আবেদন করার সুযোগও থাকে।
বিশেষ পরামর্শ
কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ভালোভাবে গবেষণা করুন
ইংরেজি দক্ষতার জন্য প্রস্তুতি নিন
আবেদনপত্র ও ডকুমেন্টগুলো যথাযথভাবে প্রস্তুত করুন
প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতার সহযোগিতা নিন
উপসংহার
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শুধু একটি ডিগ্রির বিষয় নয়, বরং একটি নতুন জীবনের দ্বার উন্মোচন। পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করলে এবং সঠিক পথে আবেদন করলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা আর স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।