
রাইজিংসিলেট- মানুষের জীবনে সবচেয়ে নিশ্চিত ঘটনা হলো মৃত্যু। কিন্তু এই চিরন্তন সত্যকে ঘিরে বহু মত, কল্পনা ও জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো—মানুষ মৃত্যুর ৪০ দিন আগে থেকেই নাকি নিজের মৃত্যু অনুভব করতে পারে কিংবা মৃত্যুর ইঙ্গিত পায়। তবে ইসলামের আলোকে এর ভিত্তি কতটা সত্য?
কোরআন-হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই
ইসলামী শিক্ষায় মৃত্যুর সময় ও স্থান একান্তই আল্লাহর জ্ঞাত বিষয়। কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
“কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।”
(সুরা লুকমান, আয়াত: ৩৪)
বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “মৃত্যুর ৪০ দিন আগে মানুষ তার মৃত্যুর ইঙ্গিত পায়—এমন কোনো কথার উল্লেখ কোরআন বা সহিহ হাদিসে নেই। এটি লোকমুখে প্রচলিত একটি বিশ্বাস, যার কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।”
মৃত্যুর পরে কী হয়?
হাদিসে এসেছে, মুমিন বা কাফির—মৃত্যুর পরে প্রতিটি মানুষকে তার স্থায়ী আবাসস্থল (জান্নাত বা জাহান্নাম) দেখানো হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যদি সে জান্নাতি হয় তবে জান্নাতের, আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নামের বাসস্থান দেখানো হবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ১০৭২)
কোন মৃত্যুকে সৌভাগ্যের মৃত্যু বলা হয়েছে?
ইসলামে কিছু আলামত রয়েছে, যেগুলো কারও মধ্যে পাওয়া গেলে তার মৃত্যু সৌভাগ্যের বলে বিবেচিত হতে পারে। যেমন:
১. কালেমা পড়ে মৃত্যু
রাসুল (সা.) বলেছেন, “যার শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সে জান্নাতে যাবে।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩১১৬)
২. জুমার দিনে মৃত্যু
“জুমা দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪)
৩. মৃত্যুর আগে সৎকাজে যুক্ত হওয়া
“আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে মৃত্যুর আগে ভালো কাজের তাওফিক দেন।” (তিরমিজি, হাদিস: ২১৪২)
৪. শহিদি মৃত্যু
যেমন মহামারি, পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে, গর্ভবতী নারীর মৃত্যু বা সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু—এসব অবস্থাকে শহিদি মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, আবু দাউদ)
মৃত্যুর ৪০ দিন আগে তা মানুষ অনুভব করে—এমন কথা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ভিত্তিহীন। কোরআন-হাদিস অনুযায়ী, কেবল আল্লাহই জানেন কার কখন কোথায় মৃত্যু হবে। তবে একজন মুমিনের জন্য কিছু মৃত্যু আলামতকে শুভ পরিণতির ইঙ্গিত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।