
রাইজিংসিলেট- উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৮ জনের বেশি, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান হাসান ছিলেন পরীক্ষার শেষে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলায় ব্যস্ত। হঠাৎ করেই বিমানটি তাদের সামনে ভবনে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন। ফারহান বলেন, “আমার একটা বেস্ট ফ্রেন্ড, যে পরীক্ষার হলে একসঙ্গে ছিল, সে আমার চোখের সামনেই মারা গেছে।”
প্রশিক্ষণ বিমানটি ছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমান, যা কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয় এবং পাইলট বিমানটি জনবসতি এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। তবে সেটি মাইলস্টোন স্কুলের জুনিয়র সেকশনের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়, যেখানে নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চলছিল।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অনেকেই বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার ২২ জুলাই (মঙ্গলবার) সারাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
এই দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং একজন কিশোরের জীবনের এক অপূরণীয় ক্ষতির প্রতীক হয়ে উঠেছে—যেখানে বন্ধুকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে ফারহান, আর শোকাচ্ছন্ন পুরো স্কুল।