
ছাতক (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের ছাতকে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্ধের জেরে অপহরণ মামলার শিকার হয়েছেন একই পরিবারের পিতাপুত্র সহ ৩জন। স্ত্রীর নির্যাতন মামলায় কারাভোগের পর প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীর সাথে আপোষের পর স্ত্রীকে দিয়েই তার স্বজনদের বিরুদ্ধে আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করিয়েছেন তিনি। চার মাস যাবত নিজ সন্তানকে আত্মগোপনে রেখে উদ্ধার দেখিয়ে স্ত্রীর চাচা ও ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার চাঞ্চল্যকর তথ্যের সুস্থ তদন্ত ও অপপ্রচারের বিচার দাবী করে গত ১৪ আগষ্ট সিলেটের ডিআইজি বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী ছৈয়দুল ইসলাম। তিনি ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের লক্ষমসোম গ্রামের মৃত আবদুল লতিফ এর ছেলে। অভিযোগে বলা হয় ছাতক পৌরশহরের বাগবাড়ি গ্রামের মাহমুদ আলী বক্সের ছেলে, দেলোয়ার মাহমুদ জুয়েল বক্সে ও উপজেলার নোয়ারাই ইসলামপুর এলাকার মৃত শাহজাহানের কন্যা সাহানা জাহান পলি ২০০৬ সালে পালিয়ে বিয়ে করেন। সম্প্রতি স্বামী কর্তৃক শারিরিক নির্যাতনের শিকার হলে স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে পিত্রালয়ে আশ্রয় নেন ৩ সন্তানের জননী পলি। এরপর ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর স্বামী জুয়েল বক্সে তালাক দিয়ে সুনামগঞ্জ আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন পিটিশন নং ৪৫৯/২০২৪ দায়ের করেন। মামলাটি এফআইআর এর জন্য আদালত ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা নং ১৮/২০২৪ রুজু করা হয়। এ মামলার তদন্তে সত্যতা পেয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশীট) দাখিল করেন থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিকন্দর। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে ২২ দিন কারাভোগও করেন পলির স্বামী জুয়েল বক্স। এরপর জামিনে বেরিয়ে স্ত্রী পলি ও তার স্বজনদের ফাসাতে ছেলে তাহসিনকে আত্মগোপনে রেখে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় নিখোজ ডায়েরি করেন জুয়েল বক্স। পরবর্তীতে স্ত্রী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের সন্দেহ হলে সন্তান উদ্ধারে তৎপর হলেও মামলা রুজু করা হয়নি। পুলিশকে মামলা নিতে বাধ্য করার লক্ষে জাউয়াবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলামকে জরিয়ে নানা অপপ্রচার চালান জুয়েল বক্স। এসবের প্রতিবাদে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ছাতক প্রেসক্লাবে তালাকপ্রাপ্তা স্বামী জুয়েল বক্সের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন স্ত্রী সাহানা জাহান পলি। এতে তিনি লিখিত বক্তব্যে তাট স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক শারিরীক নির্যাতন সহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। এছাড়া তার সন্তান তাহসিনকে লোকিয়ে রেখে তার স্বামী কারাভোগের প্রতিশোধ নেওয়ার লক্ষে অপপ্রচার ও অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ করেন। এরপর ৩সন্তানকে স্বামীর কাছ থেকে উদ্ধারের জন্য সুনামগঞ্জ আদালতে ১০০ ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন পলি। পরে সংসার ও সন্তান উদ্ধারের স্বার্থে বিষয়টি আপোষ মিমাংশার উদ্যোগ নেন থানার ওসি সহ স্থানীয় কয়েকজন গনমাধ্যম কর্মী। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন বন্ধন বি-৫ খাসদবির এলাকায় জুয়েল বক্সের ভাড়া বাসায় বিষয়টি মিমাংশা হয়। ঘটনার চার দিন পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্বামীর বিরুদ্ধে দায়েরি মামলা তুলে নিতে আদালতে আপোষ নিস্পত্তির আবেদন করেন পলি। এছাড়া সন্তানদের নিজ জিম্মায় চেয়ে আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১০০ ধারার মামলাটিও না চালানোর আবেদন করেন। এতে উল্লেখ করেন আমার সন্তানগণকে আমার নিকট প্রদান করায় আমি আর অত্র মোকাদ্দমা চালাতে চাইনা। এ কথায় প্রমান করে নিখোঁজ তাহসিন বক্সসহ অপহরণ হয়নি। কিন্তু আপোষের ২ মাস ১০দিন পর গত ৩১ মে ছেলে তাহসিনকে সাথে নিয়ে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন পলি। এতে বলেন ছেলে তাহসিনকে সুনামগঞ্জ জেলার বিশম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় আগেরদিন সাহানা জাহান পলি বাদী হয়ে সিলেটের আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন নিজের ভাই,চাচা ও চাচাত ভাইয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু নিখোঁজের চার মাস পরও উদ্ধারের সময় তাহসিনের পড়নে ছিল নিখোজ হওয়ার সময়ের ওই স্কুল ড্রেস। যা ছিল একদম নতুনের মতো চকচকে পরিস্কার। হারিয়ে যাওয়ার সময়ে ড্রেস শরিরের ঢিলেঢালা হলেও উদ্ধারের সময় ছিল টাইটফিট। যা দেখে অনুমান করা যায় অপহরণ নয় বরং সুখে শান্তিতেই ছিল তাহসিন বক্স।
এছাড়া থানা পুলিশের কাছেও বিষয়টি রহস্যজনক হওয়াতে মামলা রুজু হয়নি।
যে কারণে স্ত্রীকে দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করান জুয়েল বক্স। মামলাটি আদালতের নির্দেশে তদন্ত করছে সিআইডি সিলেট শাখা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তবে ভুক্তভোগীদের দাবী চার মাস কোথায় কিভাবে ছিল তাহসিন তা পিতা-মাতাকে আইনি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই রহস্য উন্মোচিত হবে। এছাড়া লিখিত আবেদনে দেওয়া তথ্যের নিবিড় অনুসন্ধান করা হলে মামলা থেকে পরিত্রাণ পাবেন বলেও দাবী তাদের।
এ বিষয়ে জুয়েল বক্সের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও খোঁজে পাওয়া যায়নি।