
একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশের উপর আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সূত্রমতে, ঘটনার সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার মামলার আসামি ধরতে গিয়ে আজ শনিবার (২৮ জুন) ভোররাতে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল হামলার শিকার হয়।
ঘটনাটি ঘটে গজনাইপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গজনাইপুর গ্রামে। পুলিশের দলটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নজর উদ্দিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করে তাঁর বসতঘর থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে “ডাকাত এসেছে” বলে ঘোষণা দেয়। এরপর দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় কনস্টেবল শাহ ইমরান (২৭), মোজাম্মেল হক (২৫) ও পল্টন চন্দ্র দাশ (২৫) আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পুলিশের একটি ভ্যান ও দুটি সিএনজিকে ভাঙচুর করে। এ সময় নজর উদ্দিনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তারা।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহতদের খোঁজখবর নেন।
নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “সংঘবদ্ধ হামলায় আমাদের ৩ জন সদস্য আহত হয়েছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”
পূর্বপ্রসঙ্গ: গত ৩১ মে নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার পশুর হাট সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর হামলা হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেট সন্দ্বীপ তালুকদার আহত হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে।
এছাড়া, গত ২২ মার্চ একই হাটে সাংবাদিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েকজন টিভি ও সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধির ওপর বাজার কমিটির লোকজন হামলা চালায়, ভাঙচুর করা হয় ক্যামেরা ও মোবাইল।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সব ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং নিয়মিত মামলা হবে।