
রাইজিং সিলেট :: বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব কলঙ্কমুক্ত বাহিনী করতে এবং জনরোষ থেকে বাঁচাতে এসএমপির বর্তমান কমিশনার রেজাউল করিম (পিপিএম- সেবা) কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এর আগে তিনি অ্যাডিশনাল ডিআইজি হিসেবে এন্টি টেরোরিজম ইউনিটে কর্মরত ছিলেন।
শেখ হাসিনা সরকার পথনের পর গত ৫ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর সিলেট মহানগরে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে নবাগত এ কমিশনার কয়েকটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
তিনি পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি, পুলিশি কার্যক্রম গতিশীল করা, ফুটপাত ও রাস্তায় হকার ও যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং অসময়ে মহানগরে ট্রাক চলাচল বন্ধ করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত নিষিদ্ধ রিকশা চলাচল বন্ধ করা, চোরাচালানের মূল হোতাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা-সেবন ও জুয়া-পতিতাবৃত্তি বন্ধ করতে নিজে কাজ করার পাশাপাশি অধিনস্থদের নির্দেশনা দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে পূণ্যভূমি সিলেটের মানুষের আস্থা যাতে পুলিশের প্রতি পুরোপুরি ফিরে আসে সেই লক্ষ্যেই কাজ করেছেন তিনি। পুলিশ যেহেতু জনসম্পৃক্ত একটি বাহিনী। তাই সিলেটের রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মত-বিনিময়ও করেছেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬টি থানায় ‘ওপেন হাউস ডে’ চালু করা হবে এবং এসএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত থেকে জনগণের অভিযোগ-সুপারিশ শুনে অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন। ৫ আগষ্টের ঘটনাগুরো আসলে তদন্ত সাপেক্ষ। তবে অপরাধ প্রমাণিত হলে কোন পুলিশ সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না। যদি দেখা যায়, আন্দোলনের সময় অতি উৎসাহী হয়ে কোনো পুলিশ সদস্য অপেশাদার আচরণ করেছেন এবং সেটি প্রমাণিত হয় তবে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে। বিশেষ করে সিলেটের উল্লিখিত দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ যারা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত তাদের গ্রেফতার করা না হলেও কোথাও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলাগুলোর তদন্তকাজ অব্যাহত আছে। দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী বলা হয় সিলেটকে। কিন্তু আবাসিক হোটেলগুলোতে অপ্রতিরোধ্য অসামাজিক কার্যকলাপ, যত্রতত্র জুয়ার আসর বসানো ও মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা সিলেট মহানগরকে অপবিত্র ও অশান্ত করে তুলেছে, এই পুণ্যভূমিতে কোনো অপুণ্যের কাজ হতে দেবো না আমি। পতিতাদের যাতে হোটেলগুলো জায়গা না দিতে পারে সেজন্য নিয়মিত অভিযান চলবে আমাদের।
পুলিশকে পুরোপুরি সিলেট মহানগরবাসীর আস্থাশীল করতে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের সব ধারনা বা পরিকল্পনা জোরদার ভাবে বাস্তবায়ন করতে কাজ করছেন তিনি। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন সবাই মিলে শীঘ্রই সিলেটকে পুরোপুরি সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও শান্তির মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। তাঁর একটি স্পষ্ট কথা, অপরাধী অপরাধী-ই। সে যেই হোক না কেন? এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা পুলিশের কোনো সদস্য যাতে কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে না জড়ায়, সে বিষয়ে সদা মনিটরিং করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় ফোর্স অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এরই মধ্যে মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃক কেউ কোনো হয়রানির শিকার হলে সেই সেলে এসে সুনির্দিষ্ট ভাবে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারবেন। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া পুলিশের প্রচলিত আইনের পাশাপাশি যত পুলিশের বিধান আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। পুলিশ যাতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে পারে সেদিকে আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে। সিলেট নগরীর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি।
ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ, পরিবহন শ্রমিক সংগঠন, বিআরটিএ-সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক করেছি। সড়ক ও ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং গাড়ি স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে কোনো টুকেন বা স্টিকার-বাণিজ্য হতে দেওয়া হবে না। মোট কথা- বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সড়কে কোনো যানবাহন চলবে না। ১০টার পরেই সিলেট মহানগরে ট্রাক প্রবেশ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চোরাচালান পণ্যের সঙ্গে বাহকরা ধরা পড়ে, মূল হোতারা থেকে যায় অন্তরালে। তবে ইতোমধ্যে (আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর) মহানগর পুলিশ চোরাই চিনির ট্রাক ধনরতে শুরু করেছে পুলিশ। এছাড়া চোরাকারবারিদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে তাকুক ছাড় দেওয়া হবেনা। ‘ওপেন হাউস ডে’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এলাকার অপরাধ দমনে এটি খুব কাজ দেয়।
গত ৫আগস্ট-দুর্বৃত্তরা সিলেটের প্রায় সকল থানা ফাঁড়িতে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। সব মিলিয়ে এসএমপি’র সব থানা ও ফাঁড়ির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে নিরুপণ করা হয়েছে। থানা ও ফাঁড়িগুলোতে সেদিন সরকারি গাড়ি ২৬টি ও বেসরকারি গাড়ি ১৪টি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ৫৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ওই সময় ডিউটি’র জন্য নেওয়া (রিকুজিশনকৃত) জনগণের বেশ কয়েকটি গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষতি হয় সাড়ে ৯ লক্ষ টাকার। এগুলো ছাড়াও স্থাপনা ও আসবাবপত্র পুড়িয়ে ক্ষতি করা হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার। এসবের হিসাব আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়ে দ্রæত সংস্কারের জন্য আবেদন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ফাঁড়ি,বিশেষ করে বন্দরবাজার, লামাবাজার ও সোবহানীঘাট ফাঁড়ির কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী বিল্ডিংয়ে অস্থায়ীভাবে চলছে। সংস্কার শেষে মূল কার্যালয়ে ফিরে আগের মতো কার্যক্রম শুরু হবে।
লুট হওয়া ও সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যে জোর অভিযান চালানো শুরু করেছে আমাদের বিভিন্ন ইউনিট। এছাড়া এ বিষয়ে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অস্ত্রধারী কেউই অধরা থাকবে না। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি অনুদ্ধারিত সব অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হবো। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় অবৈধ অস্ত্র কেরি করা লোকদের বিষয়ও আমাদের নজরে এসেছে।তাদেরকেও খোঁজা হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্রধারীরা আইনের আওতার বাইরে থাকলে এই সিলেট কখনো শান্ত হবে না। তাই তাদের ব্যাপারে আমরা যতটা কঠোর হওয়া যায় হবো।