
রাইজিংসিলেট- ডিম খাওয়া আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। সকালে ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধ ডিম, সকালের নাশতায় ভাজি বা অমলেট, খাবারে তরকারি হিসেবে ডিম ভুনা কিংবা বিকেলের স্ন্যাকসে ডিমের বিভিন্ন পদ খাওয়া হয়। সবমিলে প্রতিদিন ডিম থাকেই। কিন্তু প্রতিদিন ডিম খাওয়া নিয়ে নানা মত রয়েছে অনেকের।
সম্প্রতি অনেককে বলতে দেখা যায়, ডিমের মতো উপকারী খাবার প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয়। আবার কেউ কেউ এর বিপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বরং বেশি বেশি ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আসলেই কি ডিম প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয়―নাকি বেশি বেশি খাওয়া ভালো। এ ব্যাপারে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন কলকাতা শহরের রুবি হাসপাতালের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান স্বাগতা মুখোপাধ্যায়। এবার তাহলে এ বিষয়ে জেনে নেয়া যাক।
পুষ্টিগুণে ভরপুর ডিম: একটি ডিম থেকে মোটামুটি ৭২ ক্যালোরি, ৫ গ্রাম ফ্যাট, ২০৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল, ৬৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন-এ, ডি, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের মতো উপকারী উপাদান এবং কিছু খনিজ। এসব উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ জন্য প্রতিদিন ডিম খাওয়া হলে পুষ্টির ঘাটতি মিটে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগব্যাধিও দূর করে।
প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি উচিত: ডায়েটিশিয়ান স্বাগতা জানিয়েছেন, যেকোনো বয়সের একজন মানুষ দিনে একটি করে ডিম খেতে পারেন। এ জন্য শরীরে অ্যালবুমিন নামক একটি প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ হয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো অসুখ থাকলেও প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া যেতে পারে। তবে যদি কোনো কারণে ডিম খেলে সমস্যা হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
কোলেস্টেরল থাকলেও খাওয়া যাবে ডিম: কেউ কেউ মনে করেন, ডিম খেলে হয়তো কোলেস্টেরল বাড়ে। কথাটি আংশিক সত্য বলে জানালেন ডায়েটিশিয়ান স্বাগতা। তার ভাষ্যমতে, ডিমের কুসুমে খারাপ কোলেস্টেরল থাকলেও সেটি পরিমাণে খুবই কম। এ জন্য দিনে একটি ডিম খাওয়া যেতেই পারে। তবে কোলেস্টেরল রোগীদের দিনে একটির বেশি ডিম খাওয়া উচিত নয়। এতে সমস্যা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
দিনে কয়টি ডিম খাওয়া ভালো: বয়স যদি কম থাকে তাহলে দিনে দুটি ডিম খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বয়স যদি ৩৫-এর বেশি হয়, তাহলে একটি ডিমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। এতে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ও কোলেস্টেরল থাকলেও দিনে একটি করে ডিম খেতে পারেন। তা না হলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য দিনে কয়টি ডিম খাওয়া হয়, সেটি খেয়াল রাখা জরুরি। আর কোনো সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।