
রাইজিংসিলেট- বাণিজ্য চুক্তিতে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ কি বদলাবে? সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে দেখা দিয়েছে চাপ, যার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য সময়সীমা। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তিতে না পৌঁছাতে পারলে পূর্ণমাত্রার আমদানি শুল্ক কার্যকর করা হবে।
এই ঘোষণার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে স্বর্ণের দামের ওপর। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি চুক্তি সম্পন্ন হয়, তাহলে স্বর্ণের দামে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা না হলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে মার্কিন শুল্কনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে স্বর্ণের দাম বেড়ে ৩,৩০০ থেকে ৩,৫০০ ডলার প্রতি আউন্স পর্যন্ত পৌঁছায়। বর্তমানে দাম কিছুটা কমলেও, বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর বা আরও পড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে আসন্ন বাণিজ্য চুক্তির ফলাফল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বর্ণের দাম ইতিমধ্যে ৩৭২.২৫ দিরহাম প্রতি গ্রাম পর্যন্ত উঠে গেছে, যা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গহনার দোকানদাররা বলছেন, দাম বাড়ার ফলে ক্রেতারা পিছিয়ে যাচ্ছেন, এমনকি গ্রীষ্মকালীন অফার কিংবা ‘ডিএসএস গোল্ড র্যাফল’-এর মতো আকর্ষণীয় উদ্যোগও অনেককে টানতে পারছে না।
এক স্বর্ণ বিক্রেতা জানান, আগের সপ্তাহে যখন দাম ছিল ৩৬৫ দিরহাম, তখন বিক্রি ছিল অনেক ভালো। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য চুক্তি হয়, তাহলে দাম আবারও ৩৬৫ দিরহাম বা তার নিচেও নেমে যেতে পারে। অন্তত ১০ দিরহামের মতো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিমালা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ সরাসরি প্রভাব ফেলছে স্বর্ণবাজারে। তাই এখন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি ট্রাম্পের বাণিজ্য সময়সীমার দিকে, যা শুধু স্বর্ণ নয়, পুরো বাজারেই নতুন মোড় আনতে পারে।