
রাইজিংসিলেট- বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মাসুমার দাফন সম্পন্ন, শোকের ছায়া গ্রামজুড়ে। ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধ হওয়া মাসুমা (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। পাঁচ দিন ধরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মাসুমা মাইলস্টোন স্কুলে আয়ার কাজ করতেন। দুর্ঘটনার দিন স্কুলের শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যায় এবং শ্বাসনালিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
শনিবার রাতেই মাসুমার মরদেহ ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের কুড়ালিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছে। রাত থেকেই স্বজন, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা ভিড় করেন তাকে শেষবার একনজর দেখার জন্য। কান্না আর শোকের মধ্যে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
নিহত মাসুমার স্বামী মো. সেলিম ঢাকায় একটি বায়িং হাউজে ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেন। মাসুমা তার স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর তুরাগ থানার নয়ানগর শুক্রভাঙ্গা এলাকায় বসবাস করতেন।
ডা. শাওন বিন রহমান, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক, জানান—শনিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মাসুমা মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে এবং মোট দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৫ জন।
স্বামী মো. সেলিম জানান, মাসুমা স্কুলের শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। তার এই আত্মত্যাগ এলাকাবাসীর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
গ্রামজুড়ে চলছে শোকের ছায়া, সন্তানদের মুখ চেয়ে ভবিষ্যতের পথ যেন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।