
তাহিরপুর থেকে ভারতে অবৈধ প্রবেশ করে মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলসের রংদাংগাই গ্রামে এক যুবকের ওপর হামলা, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চার বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এদের মধ্যে তিনজন নিজেদের আওয়ামী লীগ পরিচয় দেন। এরপর রবিবার আরও এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।
আগের দিন অর্থাৎ শনিবার গ্রেফতার হওয়া চার বাংলাদেশির হলেন, জামালপুর জেলার জাহাঙ্গীর আলম (২৫), মারুফুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের সায়েন হোসেন ও কুমিল্লার মাহফুজ রহমান। এর মধ্যে মারুফুর রহমান নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়েছিলেন।
দ্য শিলং টাইমসের সঙ্গে কথা বলে মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলসের পুলিশ সুপার বি. জিরওয়া জানান, স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় খোঞ্জয় এলাকা থেকে সর্বশেষ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির নাম মুবারক মিয়া, তিনি তাহিরপুর উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
মেঘালয়ের পুলিশ এবং বিএসএফ যৌথ অভিযানে অভিযানস্থল থেকে বাংলাদেশের পুলিশের কনস্টেবলের আইডি কার্ড, পিস্তল হোলস্টার, রেডিও সেট, হাতকড়া, মোবাইল ফোন, মুখোশ, কুঠার, তার কাটার যন্ত্রসহ বাংলাদেশী মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।
মেঘালয়ের রংদাংগাই গ্রামে শুক্রবার (৮ আগস্ট) ২১ বছর বয়সী বলসরাং এ. মারাক নামে এক যুবকের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। তাকে অপহরণ করা হয়। পুলিশ, বিএসএফ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে শনিবার চারজনকে গ্রেফতার করে।
মেঘালয়ের ‘Highland Post’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানায় তারা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ভারতে আশ্রয় নিতে চায়। অন্য একজন জানান তিনি গেকো শিকার করছিলেন।
সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানান, বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে ভারতীয় মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে চার বাংলাদেশিকে আটক করেছে। বিষয়টি মেঘালয় পুলিশ তদন্ত করছে এবং বিজিবি সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।