
রাইজিংসিলেট- ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর লুট: ১০৩ জনের নাম প্রাথমিক তালিকায়। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকায় সাদা পাথর লুটের ঘটনায় অবশেষে প্রাথমিকভাবে ১০৩ জনের নাম উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুত করা এই তালিকাটি এখন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানিয়েছেন, পুলিশ, র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো মিলে এই তালিকা তৈরি করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে যাদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা গেছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, তালিকায় শুধু সরাসরি লুটে অংশগ্রহণকারীরাই নন, রয়েছে রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি, নৌকার মালিক ও পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকের নামও।
এদিকে, শনিবার ভোরে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের নাম তালিকায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান। তিনি জানান, তাদের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট রাতেই খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হাবীব প্রায় দেড় হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে কোটি কোটি টাকার পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন ও লুট করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই লুটপাট নতুন কিছু নয়—বছরের পর বছর ধরেই চলছিলো এই চোরাচালান। রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এ কাজ হতো প্রকাশ্যে, আর প্রশাসন ছিল নীরব দর্শক।
যদিও কিছু পাথর ফেরত এসেছে, তবুও স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে গভীর হতাশা। তাঁদের মতে, প্রতিদিন যে হারে পাথর লুট হয়েছিল, ফিরিয়ে আনা হচ্ছে তার খুব সামান্যই। ফলে ‘সাদা পাথর’ আবার আগের রূপ ফিরে পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢলের পর ভোলাগঞ্জের ধলাই নদীর তীরে প্রাকৃতিকভাবে সাদা পাথরের স্তর গঠিত হয়। প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে জমে থাকা এসব পাথর স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নেয়। পর্যটকদের আকর্ষণে জায়গাটি পরিণত হয় সিলেটের একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে।
সাদা পাথর এলাকার ওপারে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় থেকে আসা ঝরনার পানির স্রোতে প্রতি বর্ষায় এখানে ঢলের সঙ্গে পাথর আসে। প্রশাসন ২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢলের পর এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সময়মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পুনরায় তা লুটের শিকার হয়।
সাম্প্রতিক ঢলে পানি বাড়ায় পর্যটকদের আনাগোনা কমে গেলে, সুযোগ নেয় লুটকারীরা। বারকি নৌকায় করে এক সপ্তাহ ধরে চলে এই ‘মব স্টাইল’ লুট। পুলিশ ও প্রশাসন তখন কার্যত নিরব দর্শক হয়ে ছিল বলে অভিযোগ।