
রাজু দিনের বেলা মেকানিক। রাত হলে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর নাম রাজু আহমদ। তিনি নিজস্ব গাড়ি করে সারাদেশে মাদক দ্রব্য সরবরাহ করে থাকেন বলেন অনুসন্ধানে জানা যায়।তিনি একজন নওমুসলিম। বসবাস করেন উপজেলার জাফলং এলাকার মোহাম্মদপুর গ্রামে। তবে সব সময় তিনি রয়ে গেছেন প্রশাসনসহ লোকচক্ষুর আড়ালে রাজুর পেশা তিনি একজন গাড়ির মেকানিক।
জাফলং বাস স্ট্যান্ডের বিপরীত পাশের রাজুর মেকানিকের দোকান। আসলে কি তিনি শুধু গাড়ির মেরামত করেন।
এমন তথ্যর ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে জানা যায়, রাজু দিনের বেলা মেকানিক। রাত হলে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। এজন গাড়ি মেকানিক রাজুর রয়েছে ৫টি বিভিন্ন ব্যান্ডে প্রাইভেট কার। ৬টি টিসি গাড়ি, ২ টি লেগুনা। তবে গাড়িগুলো নিজের নামে খরিদ করেন নি। যেহেতু গাড়ি গুলো মাদক সরবরাহ কাজের জন্য ব্যবহার করা হয় তাই কোনটি গাড়ি তার নিজের নামে নেই। বিভিন্ন ব্যক্তির নামে গাড়িগুলো খরিদ করে রেখেছেন। তার কাছে রয়েছে বেশ কয়েকটি গাড়ির নাম্বার প্লেটসহ জাল কাগজ ।
রাজু একজন হিন্দু ঘরের ছেলে, প্রেম করে বিয়ে করে মোহাম্মদপুর গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়েকে। পরে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। নওমুসলিম হিসাবে সকলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠে। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে এক সময় সে জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসায়। দিনে মেকানিকের লেবাস ধরে থাকলেও রাত হলে তার মাদক ব্যবসা জমে উঠে। সামান্য মেকানিক রাজুর হঠাৎ উত্তান দেখে হতবাক স্থানীয় লোকজন। মাদক ব্যবসা করে রাজু অল্প দিনে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে যায়। কিছুদিন আগে মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রায় কোটি টাকা দিয়ে একটি বাড়ি কিনে রাজু। তার নামে বেনামে রয়েছে ১১/১২ টি বিভিন্ন ব্যান্ডের গাড়ি। রাজুর বসবাস বর্ডার এলাকায় হওয়ায় মাদক তার কাছে সহজলভ্য এ ব্যবসায় তার শশুর বাড়ির লোকদের জড়িত রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চত করে।
নাম প্রকাশে অন ইচ্ছুক রাজুর এক প্রতিবেশী বলেন, শুধু মাদক ব্যবসা করে রাজু এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক।
তবে সে সব সময় আড়ালে থেকে আপন শালা সমন্ধি বিভিন্ন লোক দিয়ে তার নিজস্ব গাড়ি দিয়ে সারাদেশে মাদক সরবরাহ করে থাকে। তবে সে সব সময় রয়েগেছে আন্ডার গ্রাউন্ডে। এক কথায় রাজু হচ্ছে জাফলং এলাকার মাদক সম্রাট, তবে দিনের বেলা স্থানীয়দের কাছে রাজু সামান্য মেকানিক। এ বিষয়ে রাজুর বক্তব্য জানতে চাইলে তার দোকানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল দিলে ফেন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্বভ হয়নি।
স্থানীয়রা আরও জানান, রাজুর মাদক সরবরাহ করতে গিয়ে তার আপন সমৃদ্ধি মোহাম্মদপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ও মাতা মনোয়ারা বেগমের ছেলে শাহিন ৭শ বোতল ফেনসিডিলসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক হয় । এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে প্রমানিত হওয়ায় রাজুর সমন্ধি শাহিন আহমদকে আদালত যাবতজীবন কারাদন্ড প্রদান করেন। কিন্তু চতুর রাজু উক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামী শাহিনকে উচ্চ আদালত থেকে আপিলের মাধ্যমে জামিনে বের করে নিয়ে আসে।
কিছুদিন আগে যে রাজু গাড়ির চাকা মেরামত করে জিবিকা চলতো সেই রাজু স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সিলেটের প্রত্যেকটা বর্ডার থেকে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফেন্সিডিল,আফিম, হেরোইন, ইয়াবা, বিভিন্ন ব্যন্ডের মাদক আমদানি করে থাকে। মেকানিক রাজু এই অবৈধ চোরাচালানে ব্যবহৃত ৬টি টিসি গাড়ি এবং ৫টি প্রাইভেট কার দুইটি লেগুনা ব্যবহার করে থাকে। রাস্তায় বিভিন্ন কৌশলে গাড়ির নাম্বার প্লেট বদল করে বা গাড়ি বদল করে আইনের চোঁখকে ফাঁকি দিয়ে নির্বিগ্নে গন্তব্যে চলে যায়। প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিতে গাড়িগুলো এমন ভাবে সে ব্যবহার করে কিছু দূর পর-পর গাড়ির নাম্বার প্লেট পরিববর্তন করে কৌশল ও রোড পরিবর্তন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক দ্রব্য পৌঁছে দিতে পারে। মাদক ব্যবসায়ী রাজুর নামে বেনামে রয়েছে জায়গা জমি আর সম্পদ।