
রাইজিংসিলেট- চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার কোথায়? ভূমি অধিকা প্রথম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ জুন, রবিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ সম্মেলনে চা-শ্রমিকদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম উঠে আসে নানা আয়োজনে।
সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আহ্বায়ক সবুজ তাঁতি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠক মনীষা ওয়াহিদ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কমরেড সেলিম বলেন, “চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী হলো দেশের সবচেয়ে অবহেলিত, নিপীড়িত জনগোষ্ঠী। স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।” তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, “এরশাদের আমলেও আমরা আন্দোলন করে অধিকার আদায় করেছি। কিন্তু আজ আপনি চা জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার দিতে দ্বিধায় কেন? বাগানের বাইরেও অনেক জায়গা আছে, যা তাদের দেওয়া সম্ভব।” সেইসঙ্গে তিনি দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি ও ১০ দফা দাবির দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত এই র্যালিতে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার সহস্রাধিক চা-বাগানের শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও যুবরা অংশ নেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন সবুজ তাঁতি এবং সঞ্চালনা করেন এস এম শুভ। এতে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার, সাংবাদিক মাহবুব আলমসহ বিভিন্ন চা-বাগানের পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতারা।
বক্তারা বলেন, “১৮৫ বছরের বঞ্চনা আর চলতে দেওয়া যায় না। ভূমির অধিকার ও ন্যায্য মজুরি এখন সময়ের দাবি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে যেন চা-শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত থাকে—এই দাবিও জানাচ্ছি আমরা।”
সমাবেশের শেষ পর্বে নেতৃবৃন্দ বলেন, “চা-শ্রমিকের সন্তান যেন আর কুঁড়েঘরে বড় না হয়, শিক্ষা যেন পৌঁছে যায় প্রতিটি ঘরে—এই স্বপ্ন নিয়েই শুরু হলো আজকের এই সম্মেলন। এ সম্মেলন কেবল আয়োজন নয়, এটি একটি নতুন সংগ্রামের সূচনা, রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে চা-শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর।