ছাতক প্রতিনিধিঃসুনামগঞ্জের ছাতক রেলওয়েতে মাটি খুঁড়ে মাটির নিচে থাকা মূল্যবান তামার তার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ছুটির দিনে দিনের বেলায় রেলওয়ের কয়েকজন কর্মী পুরোনো একটি ট্রান্সফরমারের স্থানে মাটি খোঁড়েন বলে জানা গেছে। এ সময় মাটির নিচে থাকা তামার তার কেটে বা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, ছাতক রেলওয়েতে আগে বড় একটি ট্রান্সফরমার ছিল। সেটি অনেক আগেই সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তুলনামূলক ছোট একটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। তবে বর্তমানে ওই ছোট ট্রান্সফরমারটিও বিকল বা নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শনিবার ছুটির দিনে রেলওয়ের আমির হোসেন (মেকানিক্স), জাহাঙ্গীর আলম (সহকারী স্প্লাইসার), রেজাউল করিম (সহকারী ফিটার) ও দেলোয়ার হোসেন (লাইনম্যান, অবসরপ্রাপ্ত)সহ কয়েকজনকে ওই স্থানে মাটি খুঁড়তে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় মিনহাজুর রহমান বলেন, ছুটির দিনে দিনের বেলায় ‘আর্থিং লিক’ মেরামতের কথা বলে রেলওয়ের কর্মীরা ওই স্থানে মাটি খোঁড়েন। পরে মাটির নিচে থাকা মূল্যবান তামার তার কেটে বা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ওই তার কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বা কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে জানান।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ের বিদ্যুৎ সংযোগের বিপরীতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নিয়মিত মাসিক বিদ্যুৎ বিল আসে। এ অবস্থায় রেলওয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রান্সফরমারটি যদি বর্তমানে বিকল বা অচল হয়ে থাকে, তাহলে মাটির নিচে থাকা পুরোনো তামার তার বের করার জন্য কেন মাটি খোঁড়া হলো এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে ইলেকট্রিক ফোরম্যান উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইলেকট্রিক ফোরম্যান মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেখানে আর্থিং লিক হয়েছিল এবং সেটি ঠিক করার কাজ করা হয়েছে। তবে মাটির নিচ থেকে তামার তার কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ছাতকবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আহসান হাবিব বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, রেলওয়ের ব্যবহৃত ছোট ট্রান্সফরমারটি যদি বর্তমানে বিকল বা নষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে সেটি মেরামত না করে ‘আর্থিং লিক’ ঠিক করার জন্য কেন মাটি খোঁড়া হলো? আর ট্রান্সফরমারটি সচল না থাকলে এর আর্থিং মেরামতের প্রয়োজনীয়তাই বা কতটুকু ছিল এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে আর্থিং মেরামতের নামে মাটি খুঁড়ে মাটির নিচে থাকা মূল্যবান তামার তার বের করা বা কেটে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, কার নির্দেশে মাটি খোঁড়ার কাজটি করা হয়েছে, সেখানে কী ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রুটি ছিল, আর্থিং লিকের বিষয়ে কোনো কারিগরি পরীক্ষা বা প্রতিবেদন রয়েছে কি না এবং মাটি খোঁড়ার পর মাটির নিচে থাকা তামার তারের কী হয়েছে এসব বিষয় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।