ঢাকাMonday , 28 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আরো
  5. খেলার খবর
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরির খবর
  8. জাতীয়
  9. দেশের খবর
  10. ধর্ম পাতা
  11. পরিবেশ
  12. প্রবাস
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দক্ষিণ সুরমায় সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে জমি দখলের ঘটনায় মা ম লা

rising sylhet
rising sylhet
September 28, 2026 6:08 pm
Link Copied!

ads

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় একটি মূল্যবান জমির স্বত্বের দাবি নিয়ে দীর্ঘ ২৯ বছরের আইনি লড়াই শেষে মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় বহাল থাকলেও জমি উদ্ধার ও বি এস রেকর্ডের খতিয়ানের মন্তব্য কলামে নাম কর্তনে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ সুরমায় উপজেলার মোল্লার গাঁও ইউনিয়নের মন্দির খলা গ্রামের ভূমিখেকো শিমু আলী পিতা কলমদর আলী কর্তৃক দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করে জমি দখলে রাখার অভিযোগে ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির দাবিতে আইনি লড়াইয়ে ভুক্তভোগী পরিবার।

 

 

 

 

বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালতের একাধিক রায়, হাইকোর্ট এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের ফুলবেঞ্চের চূড়ান্ত রায়/আদেশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমি খেকো চক্র অবৈধভাবে জমি দখল ও ভাড়া আদায় চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায় নিজ স্বত্ব ও দখল পুনরুদ্ধারে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী ছাফানা বেগম। মামলার নথি ও প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, সিলেট জেলা, থানা দক্ষিণ সুরমা এলাকার (সাবেক সদর) ৮৯ নং জে এল স্থিত, এস এ ৯১ নং খতিয়ানের ৯৫৯ নং দাগের জমিকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়।

 

 

 

 

উক্ত ভূমি এস এ রেকর্ডভুক্ত মূল মালিক ছিলেন মো. আমরু মিয়া পিতা: আনিছ মিয়া, সাং-নিজ। তিনি বিগত ০৪/০২/১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে অনুষ্ঠিত ১১০৪/১৯৬০ নম্বর রেজিস্ট্রি দানপত্র দলিলের মাধ্যমে নালিশা তফসিলভুক্ত এস এ ৯১ নং খতিয়ানের ৯৫৯ নং দাগের মোট ০.০৮ একর জমি হস্তান্তর করেন জয়নাল আবেদীন ওরফে হারুন উর রশীদ ০.০৫ একর (দলিলদাতার নানা) এবং তাঁর মাতা মোছা: সোনাবান বিবি ০.০৩ একর (দলিলদাতার পিতা) জমির মালিকানা প্রাপ্ত হয়ে স্ব-স্ব অংশে ভোগদখলকার হিসেবে বহাল থাকেন।

 

 

 

পরবর্তীতে মোছা: সোনাবান বিবি বিগত ১২/০৭/১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৬৪৬৬/১৯৭৮ নং রেজিস্ট্রি দলিলে ৯৫৯ নং দাগ থেকে তাঁর প্রাপ্ত ০.০৩ একর জমি বিবাদীগণের পিতা কলমদর আলীর নিকট বিক্রি করেন। কিন্তু উক্ত জমি সুরমা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় পরবর্তীতে নদীভাঙন ও কালের আবর্তনে তাহার খরিদা স্বত্ব দখলীয় ভূমি ০.০৩ একর সম্পূর্ণরূপে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

 

 

 

 

নদীতে জমি বিলীন হয়ে যাওয়ার পর বিবাদীগণের পিতা কলমদর আলী অসৎ উদ্দেশ্যে বিগত ১৫/০৫/১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে ১৫৬০১/১৯৭৯ নং রেজিস্ট্রি দলিলে এক বিতর্কিত ও ভিত্তিহীন বিবরণ সৃজন করে দলিলের তফসিলে এস এ ৮১৯ নং দাগে ০.১৫ একর জমি উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে উক্ত দলিলে দাগ নম্বর ভুল হয়েছে মর্মে দাবি করে দলিল সংশোধনের অজুহাতে (এস এ ৯৫৯ নং দাগে ০.০৫ একর, ৯৬০ নং দাগে ০.০৭ একর এবং এস এ ৮১৯ নং দাগে ০.০৩ একর) কলমদর আলী বাদী হয়ে জয়নাল আবেদীন ওরফে হারুন উর রশীদ ও সোনাবান বিবিকে ১ ও ৪ নং বিবাদী করে সিলেট বিজ্ঞ ঊর্ধ্বতন সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা নং ১৫২/১৯৯৭ দায়ের করেন।

 

 

 

 

 

 

মামলাটি স্থানান্তরিত হয়ে কানাইঘাট বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত সিলেট স্বত্ব মামলা নং ৩৬/২০০০ হিসেবে পরিগণিত হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ৩১/০১/২০০২ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত , কানাইঘাট সিলেট দোতরফা বিচারে বাদী কলমদর আলীর মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ (ডিসমিস) করে রায় প্রদান করেন। প্রথম আদালতের রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে কলমদর আলী সিলেট বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে স্বত্ব আপিল মামলা নং ৪২/২০০২ দায়ের করেন। উক্ত আপিলের বিচারে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালত, সিলেট বিগত ১৮/০৫/২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে আপীলকারী কলমদর আলীর পক্ষে দলিল সংশোধন করে দেওয়ার জন্য রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন।

ads

 

 

 

 

 

এই আদেশের বিরুদ্ধে মূল মালিকপক্ষ অর্থাৎ রেসপন্ডেন্ট সোনাবান বিবি ও জয়নাল আবেদীন ওরফে হারুন উর রশীদ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন মামলা নং ৩৭৬৮/২০০৩ দায়ের করেন। বিচারকার্য পর্যালোচনা শেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বিগত ১৩/০৮/২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে আপিল আদালতের প্রদান করা রায়/ ডিক্রি বাতিল করেন এবং বিজ্ঞ কানাইঘাট সহকারী জজ আদালতের মূল স্বত্ব মামলা নং ৩৬/২০০০-এর খারিজের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন। হাইকোর্টের উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বিবাদীগণের পিতা কলমদর আলী মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে সিভিল রিভিশন ফর লিভ টু আপীল মামলা নং ৩৫৪/২০০৯ দায়ের করেন।

 

 

 

 

 

বিচারিক শুনানি শেষে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের ফুলবেঞ্চ উক্ত লিভ টু আপীল আবেদনটি বিগত ০৩/১০/২০১০ খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে কলমদর আলী উক্ত ফুলবেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় সিভিল রিভিউ পিটিশন নং ২৩/২০১২ দায়ের করলেও রিভিউকারী অনুপস্থিতির কারণে বিগত ০৪/০৪/২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে সেটিও চূড়ান্তভাবে খারিজ হয়ে যায়। এর মাধ্যমে জমির চুড়ান্ত মালিকানা সংক্রান্ত যাবতীয় স্বত্ব বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদিনীর স্বামী হারুন উর রশীদ এর পক্ষের অনুকূলে চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

 

 

 

 

কিন্তু বিভিন্ন আদালতে দীর্ঘ দিন মামলা বিচারাধীন থাকার সুযোগে নালিশা তফসিল বর্ণিত জমিতে বি এস জরিপের কার্যক্রম শুরু হলে বাদিনীর স্বামী মো: হারুন উর রশীদ এর নামে বি এস ৪৩৯ নং খতিয়ানে চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়। উক্ত খতিয়ানের ৯৪৮ নং দাগের মোট ০.০৫ একর জমি মো: হারুন উর রশীদ-এর নামে বি এস রেকর্ডভুক্ত হলেও ৯ নং মন্তব্য কলামে বেআইনি ও তঞ্চকতা অবলম্বনে চক্রান্তমূলকভাবে “খয়রাতি দখল কলমদর আলী, পিতা: ওয়াস্তর আলী, সাং-মন্দির ক খলা” নামটি লিপিবদ্ধ করা হয়।

 

 

 

 

 

উক্ত অবৈধ ও বেআইনি মন্তব্য কলামের নাম কর্তনের জন্য বাদিনী ছাফানা বেগম গং বাদী হয়ে বিবাদী কলমদর আলীর মৃত্যু বরণ করায় তাঁর উত্তরাধিকারী পারভেজ আহমদ গং-কে বিবাদী শ্রেণীভুক্ত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দক্ষিণ সুরমা, সিলেট-এর রাজস্ব আদালতে বিবিধ মামলা নং ৭৭/২৫-২৬ দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

এমতাবস্থায়, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়/ডিক্রির আলোকেও জমি ফেরত না পাওয়ায় বাদিনী ছাফানা বেগম বাদী হয়ে বিবাদী পারভেজ আহমদ গং-এর বিরুদ্ধে নতুন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারা এবং ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪’-এর ৬(১) ও পরিশিষ্ট ৫ অনুযায়ী অবৈধ দখল পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক, সিলেট বরাবরে লিখিত আবেদন দায়ের করেছেন। উক্ত আবেদনটি বর্তমানে বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিলেট-এর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দক্ষিণ সুরমা-এর আদালতে ভূ: অঃ প্র: প্র: আ: মামলা নং ০৫/২০২৬ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার নিকট সরজমিনে তদন্তাধীন রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

পাশাপাশি, অন্যায় জবরদখল, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আর্থিক ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে বাদিনী ছাফানা বেগম দক্ষিণ সুরমা সি আর মামলা নং ১৮২/২০২৬ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিবাদীগণ নালিশা তফসিল বর্ণিত জমিতে গড়ে তোলা টিনশেড ঘর থেকে অন্যায়ভাবে প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫,০০০/- (পনেরো হাজার) টাকা ভাড়া আদায় করে বাদিনীকে মারাত্মক আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। বাদিনী আদালতের নিকট উক্ত দখল পুনরুদ্ধার, বেআইনিভাবে আদায়কৃত ভাড়ার ক্ষতিপূরণ আদায় এবং আদালতের আদেশ অমান্যকারী বিবাদীগণের কঠোর ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের নিবিড় তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।