কামাল হোসেন মিঠু ::পর্যটন নগরী সিলেটের অন্যতম আকর্ষণ জাফলং। পাহাড়, ঝরনা, চা-বাগান আর পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলধারার টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। এবার সেই চেনা সৌন্দর্যের সঙ্গে শরতের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে যুক্ত হয়েছে শুভ্র কাশফুল। জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলজুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলে সেজেছে প্রকৃতির অপরূপ সাজ। সাদা কাশফুলের দোল আর নীল আকাশের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ছুটির দিনে জাফলংয়ে ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে জাফলংয়ের পর্যটন এলাকা। বিশেষ করে ঝরনা ও পিয়াইন নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ফুটে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ করছে।
দূর থেকে তাকালে বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সাদা কাশফুলের সারি যেন প্রকৃতির আঁকা কোনো ছবি। দক্ষিণা বাতাসে কাশফুলের সাদা শীষগুলো দুলতে থাকলে পুরো প্রান্তরে সৃষ্টি হচ্ছে ঢেউয়ের মতো দৃশ্য। নীল আকাশ, সাদা মেঘ, সবুজ পাহাড় আর সবুজের বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শুভ্র কাশফুল-সব মিলিয়ে জাফলংয়ে তৈরি হয়েছে শরতের এক অনন্য আবহ।
কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে আসছেন কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে। কাশবনের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, সেলফি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের জন্য তৈরি করছেন টিকটক ও রিলস।
পর্যটকদের অনেকেই জানান, জাফলংয়ের পাহাড়, ঝরনা ও নদীর সৌন্দর্যের সঙ্গে কাশফুলের এই শুভ্রতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শরতের বিকেলে কাশফুলের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিজ্ঞতাও বেশ উপভোগ করছেন তারা। অনেকের মতে, কাশবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জাফলং ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাফলংয়ের কাশবনের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। সকাল থেকে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হলেও বিকেলের দিকে ভিড় আরও বাড়তে দেখা যায়।
বিকেলের নরম রোদ যখন কাশফুলের ওপর পড়ে, তখন সাদা শীষগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। পাহাড়ের পাদদেশ, পিয়াইন নদীর তীর ও বিস্তীর্ণ চরজুড়ে কাশফুলের শুভ্রতা তখন এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই সময়টুকু হয়ে ওঠে ছবি তোলা ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত।
জাফলংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কেউ কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ নদীর তীরে বসে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ পাহাড় ও কাশবনের সৌন্দর্য একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে জাফলংয়ের শরতের নতুন এই রূপও ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য জাফলং বরাবরই পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। আর এবার শরতের কাশফুল সেই সৌন্দর্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। পাহাড়, নদী, ঝরনা, সবুজ প্রকৃতি আর সাদা কাশফুলের মেলবন্ধনে জাফলং এখন যেন শরতের শুভ্রতায় সেজে ওঠা এক জীবন্ত ছবি।