রাইজিংসিলেট- নোয়াখালীর তিনটি উপজেলার অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ সৌদি আরবের সময়সূচি অনুসরণ করে শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করবেন। প্রায় এক শতাব্দী ধরে এসব এলাকায় কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
জানা যায়, নোয়াখালী সদর, কবিরহাট ও বেগমগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। চলতি বছরও তারা একই নিয়ম অনুসরণ করেছেন। সেই অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজের মাধ্যমে রমজান শুরু করেন এবং বুধবার থেকে রোজা রাখা শুরু করেন।
যেসব গ্রামে এই প্রথা চালু রয়েছে সেগুলো হলো- সদর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর, কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের রামভল্লবপুর এবং বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর। এসব এলাকার অন্তত দশটি মসজিদে একযোগে তারাবির নামাজ আদায় করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, বড় পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর অনুসারী কাদেরিয়া তরিকার মানুষজন প্রায় ১০০ বছর ধরে এই নিয়ম মেনে চলছেন। তাদের বিশ্বাস, আগে চাঁদ দেখা যায় এমন অঞ্চলের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করলে তারা আধ্যাত্মিক শান্তি লাভ করেন।
গোলামে জাহাগীরি দায়রা শরিফের সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। এটি তাদের কাছে আত্মিক তৃপ্তির বিষয়।
একই ধারার অনুসারী মো. সুমন বলেন, পূর্বপুরুষদের সময় থেকে এ প্রথা চলে আসছে। সৌদি আরবে চাঁদ দেখার খবর অনুযায়ী তারা রোজা শুরু করেন এবং সেই হিসাবেই ঈদ উদযাপন করেন।
রশিদিয়া রহিমিয়া দরবার শরিফের ইমাম হাফেজ মোবারক হোসেন জানান, বিশ্বের যেসব অঞ্চলে আগে চাঁদ দেখা যায়, তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তারা রমজান শুরু করেছেন এবং সে অনুযায়ী ঈদ পালন করবেন।
সিলেটে ধানক্ষেতে যুবকের লা শ উদ্ধার, পাশে মিলল ৩টি মোবাইল
এদিকে, নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মসজিদে ঈদের নামাজ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।