সিলেট নগরীতে দিন দিন বেড়েই চলছে মশার উপদ্রব। ঘর-বাড়ি, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট-সব জায়গায় এখন মশার দাপট। একসময় রাতের বেলায় মশার উৎপাত বেশি থাকলেও বর্তমানে দিনের বেলাতেও কোথাও দাঁড়ানো কিংবা বসে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে মশক নিধনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) কার্যকর ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
অতীতে বিভিন্ন সময়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধনের ওষুধ ছিটাতে দেখা গেলেও বর্তমানে সেই তৎপরতা চোখে পড়ছে না বললেই চলে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার বংশবিস্তার বাড়লেও নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। ফলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মশার উপদ্রবের সঙ্গে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। অথচ নগরবাসীর অভিযোগ, মশক নিধনে সিসিকের তৎপরতা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত ও সমন্বিত নয়। কোনো ওয়ার্ডের নাগরিক সরাসরি সিসিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে পরদিন ওই ওয়ার্ডে লোকদেখানোভাবে মশার ওষুধ ছিটানো হয় । কিন্তু যেসব এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ জানাতে পারছেন না, সেসব এলাকার নাগরিকদের দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই।
নাগরিকদের অভিযোগ পাওয়ার পরই কি কেবল মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে? নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিতভাবে মশার ওষুধ ছিটানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার দায়িত্ব কার? নাগরিকেরা কি সিটি কর্পোরেশনের কাছে গিয়ে বারবার অভিযোগ জানালেই কেবল সেবা পাবেন, নাকি এটি সিসিকের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ?
নগরবাসীর কাছ থেকে বাড়ি ও পানির করসহ বিভিন্ন ধরনের কর আদায় করা হলেও তার বিনিময়ে প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত হচ্ছে কি না । নাগরিকেরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, অথচ মশার উপদ্রবে ঘরে-বাইরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষের জন্য মশার উপদ্রব মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে রেহাই না পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালমুখী হতে বাধ্য হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ অবস্থায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নগরবাসীর দাবি, লোকদেখানো কার্যক্রম নয়—নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত, কার্যকর ও পরিকল্পিতভাবে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে নালা-নর্দমা ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস এবং ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করতে হবে। কোন ওয়ার্ডে কখন মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তারও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন কি কেবল কর আদায়ের প্রতিষ্ঠান, নাকি নাগরিকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের?