ফজল উদ্দিন, ছাতক প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের ছাতকে আমন ধান কর্তন উৎসব, সরকারি ভর্তুকিতে কৃষিযন্ত্র বিতরণ এবং পতিত জমিতে সরিষা ও পেঁয়াজের আবাদ সম্প্রসারণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের তকিরাই গ্রামের মাঠে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. উমর ফারুক, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন পিপিএম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান, ছাতক উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল করিম বকুল, ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর শাহ সফিউল আলম মতি, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমান এমরান ও অ্যাডভোকেট আব্দুল কাহার, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হক, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আলম নোমান এবং উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক আব্দুল আলিম।
অনুষ্ঠানে ৭০ শতাংশ সরকারি ভর্তুকিতে দুইজন কৃষকের মধ্যে দুটি ট্রাক্টর বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ট্রাক্টরটি যৌথভাবে পেয়েছেন উত্তর খুরমা ইউনিয়নের তকিরাই গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান ও কুতুব উদ্দিন। দ্বিতীয় ট্রাক্টরটি পেয়েছেন ছাতক উপজেলার নোয়ারাই এলাকার কৃষক আব্দুল মালিক।
প্রতিটি ট্রাক্টরের মূল্য ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা। সে হিসাবে দুটি ট্রাক্টরের মোট মূল্য ১০ লাখ ৯০ হাজার ৮০০ টাকা।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আমন ধান কর্তন, আমন ও বোরো ধান চাষের মধ্যবর্তী সময়ে পতিত জমিতে সরিষার বীজ বপন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সাশ্রয়ী ও লাভজনক ফসল হিসেবে পেঁয়াজের কন্দ রোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ আলম, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শাহ পারভেজ, জসিম উদ্দিন, শুভাশিস শেখর দাস, মিল্লাত হোসেন, বরকত উল্লাহ, জহিরুল ইসলাম, সুহেব মাহমুদ ও আশরাফুল আলম।
কৃষি বিভাগের এ উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং পতিত জমিতে সরিষাসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।