সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কথিত চোরাচালান তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিশেষ করে রাত ৩টার পর ভারতীয় পণ্য বহনকারী কথিত অবৈধ যানবাহনের চলাচল শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজবাড়ী সীমান্ত ক্যাম্পকে ঘিরে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তাজ উদ্দিন, আব্দুল, সুজন, ইছা বিলাল ও হানিফসহ কয়েকজনের নাম এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রাত ১টার পর গৌরীশংকরের বেটারি হাসিমের বাড়ির সামনের একটি কথিত অফিসে লোকজন জড়ো হন। সেখান থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ‘সিগন্যাল’ পাওয়ার পর বিভিন্ন দল ও যানবাহন সীমান্তমুখী হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া WhatsApp গ্রুপের মাধ্যমে কে কোন রুটে যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রাজবাড়ী ক্যাম্পের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে কথিত লাইনম্যান ও বহনকারীরা সীমান্ত এলাকায় চলাচলের সুযোগ পান। রাতের বেলায় লোকজন ও যানবাহন চলাচল করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রাজবাড়ী ক্যাম্প কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় একটি বড় চোরাচালান সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার তথ্য তারা পাচ্ছেন। ওই সিন্ডিকেটের একটি WhatsApp গ্রুপ রয়েছে, যেখানে বিভিন্নজনকে চলাচলের দিক ও রুট সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা আরও বরেন, কথিত ‘সিগন্যাল’, রাতের যানবাহন চলাচল, WhatsApp গ্রুপ এবং গৌরীশংকরের কথিত অফিসের বিষয়গুলো তদন্ত করা প্রয়োজন।
সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল যোগাযোগের তথ্য, সীমান্তে আটক ও জব্দের নথি এবং সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট সিও ফোন রিসিভ করেননি।