মোঃ মাসুদ মোল্লা-রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাইয়াপাড়া লঞ্চঘাটে টার্মিনাল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-যোগাযোগের এই ঘাটে জোয়ারের সময় কোমরসমান পানি এবং ভাটার সময় হাঁটুসমান কাদা পেরিয়ে লঞ্চে উঠতে হয়। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
চারদিকে নদীবেষ্টিত রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। গাইয়াপাড়া ঘাট থেকে লঞ্চযোগে পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা এই ঘাট ব্যবহার করলেও তাদের জন্য নেই কোনো আধুনিক টার্মিনাল, যাত্রীছাউনি, নিরাপদ সিঁড়ি কিংবা ওঠানামার উপযোগী পন্টুন। ফলে প্রতিকূল আবহাওয়া ও জোয়ার-ভাটার সময় যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠতে হয়।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নির মো. খায়রুল সিকদার, লিটু দালাল জানান, ঘাটে স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির সময় কাদা ও পিচ্ছিল পথে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হন। লঞ্চে ওঠার সময় ভারী মালপত্র বহনকারী যাত্রীদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। জরুরি প্রয়োজনে রোগী বা গর্ভবতী নারীকে নৌযানে তোলার সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সন্ধ্যার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রাতে লঞ্চে ওঠানামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দুর্ভোগ লাঘবে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের কাছে দ্রুত গাইয়াপাড়া লঞ্চঘাটে একটি আধুনিক টার্মিনাল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘাটটি নিরাপদ চলাচলের জন্য পন্টুন, সিঁড়ি, যাত্রীছাউনি, আলো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ নেবে।
পটুয়াখালী বন্দর পরিবহন বিভাগের সহকারি পরিচালক, মো. জাকির শাহরিয়ার জানান, আমরা গাইয়াপাড়া লঞ্চ টার্মিনালের জন্য পরিদর্শনে গিয়ে ছিলাম, এবং গাইয়াপাড়া টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আনুমোদন পেলে কাজ করা হবে।