মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ‘ইসাইয়াস’। আটলান্টিক মহাসাগরে এ বছরের প্রথম হারিকেনটি আরও শক্তিশালী হয়ে তৃতীয় শ্রেণির ঝড়ে পরিণত হতে পারে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে অথবা শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকায় ৭ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস, ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া ও টর্নেডোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঝড়টির শক্তি বাড়তে থাকায় উপকূলীয় শহর ও জনপদের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ঝড়টির সুনির্দিষ্ট গতিপথ তখনো নিশ্চিত না হলেও এর কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের মোবাইল শহর থেকে ফ্লোরিডার পেনসাকোলার পূর্বাঞ্চলের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারে। এতে মিসিসিপি, আলাবামা ও ফ্লোরিডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় হারিকেন সতর্কতা ও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
আলাবামা, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়ার কিছু এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বাসিন্দাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরের দিকে ইসাইয়াস সাময়িকভাবে তৃতীয় শ্রেণির শক্তিশালী হারিকেনে পরিণত হতে পারে। পরে উপকূলে আঘাত হানার আগে এর শক্তি কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝড় দুর্বল হলেও এর বিপদের পরিধি বাড়তে পারে।আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে বাতাসের গতি ও দিকের পরিবর্তনের কারণে ঝড়টির গঠন বদলে যেতে পারে। এতে ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের তীব্রতা কিছুটা কমলেও ঝোড়ো হাওয়ার বিস্তৃতি বাড়বে। ফলে ঝড়ের কেন্দ্র যেখানে আঘাত হানবে, তার বাইরের বিস্তীর্ণ এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ৭ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস এবং ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ ছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে সতর্কবার্তা ছাড়াই টর্নেডো সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের কারণে ফ্লোরিডার কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। লুইজিয়ানা ও আলাবামার কিছু এলাকায় আমট্রাকের রেলসেবাও ব্যাহত হয়েছে।আলাবামার অরেঞ্জ বিচের বাসিন্দাদের মধ্যেও ঝড় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে আবহাওয়া শান্ত থাকলেও ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের হারিকেন স্যালির স্মৃতি এখনো তাঁদের মনে রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির ওই হারিকেনটি উপকূলে আঘাত হেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।এদিকে, ঝড়ের কারণে শনিবার সন্ধ্যায় আলাবামার টাসকালুসায় অনুষ্ঠিতব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কলেজ ফুটবল ম্যাচ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আলাবামা ও জর্জিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়ার কথা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে দিনের বেলায় বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ম্যাচটি দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।এ বছর আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেনের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকার পেছনে ‘এল নিনো’র প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ফিলিপ পাপিন বলেন, স্যাটেলাইট যুগে—অর্থাৎ ১৯৭০-এর দশকের পর—এবারের মতো সেপ্টেম্বর মাস কোনো হারিকেন ছাড়াই পার হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।তবে মৌসুমের শুরুতে দীর্ঘ বিরতি থাকলেও ইসাইয়াসের শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কতা, ঝড়টি ঠিক কোথায় আঘাত হানবে, তার ওপরই শুধু বিপদের মাত্রা নির্ভর করছে না। এর বিস্তৃত ঝোড়ো হাওয়া, জলোচ্ছ্বাস, ভারী বৃষ্টি ও সম্ভাব্য টর্নেডো উপকূল থেকে দূরের এলাকাগুলোতেও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন