অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় এবার রহস্যের সন্ধান চলছে। ঘটনা তদন্তে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষার সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ নম্বর ধারায় ‘আনন্যাচারাল ডেথ’ বা ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর’ মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়।
পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গোয়ার ওসান পার্কের দোনা পাউলায় নিজ বাড়ি থেকে বাম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়েছিল অভিনেতা নানা পাটেকরকে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালের পক্ষ থেকে পানাজি থানায় খবর দেওয়া হয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নানাকে তার দোনা পাউলার ওসান পার্কের বাড়ি থেকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নথিতেও তা উল্লেখ রয়েছে।এরপরই বিএনএসএস-এর ১৯৪ নম্বর ধারায় ইউডি (আনন্যাচারাল ডেথ) মামলা নথিভুক্ত করে পুলিশ। ধারাটিতে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যুর ঘটনাসমূহ খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন গোয়া পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর নীতিন নায়েক। হাসপাতালের চিকিৎসক ও অভিনেতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ঘটনার যাবতীয় সব তথ্য নিয়ে কাজ করছে তদন্ত দল।বর্ষীয়ান অভিনেতা নানাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ কারণে হাসপাতালে আনার পর শুরু হয় মেডিকো-লিগ্যাল প্রক্রিয়া। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অধিকতর স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ কারণে প্রতিবেদন আসার আগ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু অনুমান করা ঠিক হবে না বলে জানানো হয়েছে।
অবশ্য ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর’ মামলা হওয়ার অর্থ এই নয়-মৃত্যুর পেছনে অপরাধ বা সন্দেহজনক কোনো কারণ রয়েছে। চিকিৎসকরা আগেই দাবি করেছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। আরও জানিয়েছে, আগে থেকেই হৃদরোগের সমস্যা ছিল। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত ওষুধও সেবন করতেন।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। হাসপাতালের চিকিৎসক শেখর সালকারের ভাষ্য-রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটের দিতে এক বন্ধুকে মেসেজ করে শরীর খারাপ লাগার কথা জানিয়েছিলেন। শরীরের বাম দিকে ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন।
কিন্তু তার বন্ধু মেসেজটি সময়মতো দেখতে পাননি। পরে ভোর ৪টার দিকে অভিনেতার বাড়ি পৌঁছে তাকে হাঁপাতে ও ঘামতে দেখেন।এ খবর হাসপাতালে জানানো হলে মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স ছুটে আসে। বাড়িতেই তাকে সিপিআর দেওয়া হয়। পরে ওই অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টায়ও কোনো সফলতা আসেনি। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে হৃদরোগে নানা পাটেকরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।