রাইজিংসিলেট- সিলেটের জৈন্তাপুরে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটিতে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেন। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশোধিত বিধানের ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে জৈন্তাপুর থানার সারিঘাট বাজার এলাকায় অবস্থানকালে পুলিশ একটি গোপন তথ্য পায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মোকামবাড়ি এলাকার আলুবাগান সংলগ্ন জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট সীমান্তের নলজুরী ব্রিজ এলাকায় কয়েকজনের জমায়েতের খবর পাওয়া যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছালে উপস্থিত ব্যক্তিরা মশাল নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে বিভিন্ন দিকে চলে যান। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, লন্ডনপ্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়ার অর্থায়নে ওই ব্যক্তিরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, সরকারি কার্যক্রমে বাধা এবং সড়ক, বিদ্যুৎ স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাজু আহমদ (৩২), শাহিন আহমদ (২৯), সৈয়দ শামিম আহমদ (৩২), আব্দুস সামাদ (৩২), মানিক আহমদ চৌধুরী (৩৮), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রাজা (৪০), আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বার (৫২), উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন আহমদ (৩৮), জলিল আহমদ (৪২), ফতেপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান (৪০), উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন (৪০), আব্দুল জলিল (৫৫), রাসেল আহমদ (৩৮), নজরুল ইসলাম (৪৫) ও হারুন মিয়া (৫০)।
আটক চারজন হলেন শাহিন আহমদ (২৯), আব্দুল জলিল (৫৫), হারুন মিয়া (৫০) এবং ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মনসুর আহমদ।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, গত দুই দিনে অভিযান চালিয়ে মামলার চার আসামিকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। সিলেটের বিশ্বনাথে দফায় দফায় মাইকিং করে সংগঠিত দু’পক্ষের সং ঘ র্ষে ৩০ জন আ হ ত
তিনি আরও বলেন, জৈন্তাপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করছে। আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের আদালতে দেওয়া আগের এক প্রতিবেদনে আব্দুল জলিল (৬০) নামে আরও একজনকে ২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয় বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের আ ন্দোলন, ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ-শিক্ষক
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার এসআই মো. দিদারুল আলম খান।