কামাল হোসেন মিঠু :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আগে রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলন হলেও বর্তমানে সামান্য জায়গা ইজারা নেওয়ার আড়ালে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চলছে বালু লুটপাট।
এ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও, ছবি এবং অভিযুক্তদের নাম-পরিচয়সহ সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার দায়িত্ব কি শুধু পুলিশের, নাকি উপজেলা প্রশাসনেরও?
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বালুমহাল ও নদী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো মূলত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের আওতাধীন। তাই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মামলা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের প্রশ্ন, বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ থাকলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ড বা ইউএনও কার্যালয় থেকে কতটি মামলা হয়েছে? কতবার অভিযান পরিচালিত হয়েছে? এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ, তথ্য বা প্রশাসনিক নির্দেশনা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া জটিল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় গোয়াইনঘাটবাসী দ্রুত কার্যকর অভিযান, দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং নদী রক্ষায় কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন, পরিবেশ বিপর্যয় এবং স্থানীয় অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি।