মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করে বলেন,যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা তিক্ত হয়ে গেলে ইসরায়েলে গিয়ে সেখানকার প্রধানমন্ত্রী হবেন।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই মন্তব্য করেন তিনি। খবর এনডিটিভির-সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে আমার জনপ্রিয়তার হার ৯৯ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ আমার ওপর তিক্ত হয়ে গেলে আমি ইসরায়েলে চলে যাবেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবো।অবশ্য বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যকে রসিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি সমঝোতা হয়েছে। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র।ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলের এখন আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলার দেওয়া হয়।
তবে কয়েক মাস আগেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ সহায়তা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়া বন্ধ হবে। তবে তাদের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে।ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে রিপাবলিকানরা।
নির্বাচনে ব্যর্থতার পর এবার আরও বড় এক ধাক্কা এসে লেগেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মসনদে। দীর্ঘদিনের মিত্র অতি-গোঁড়া ইহুদিদের একটি রাজনৈতিক দল তার পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলটি জানিয়ে দিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের জন্য তারা নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করবে না।
এতে সরকার গঠনের পথে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের সামনে বড় সুযোগ এসে হাজির হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের-প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা করছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। তিন বছর ধরে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলকে নেতৃত্ব দেওয়া ডানপন্থি নেতা নেতানিয়াহু দেশটিতে বেশ বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম নামের অতি-গোঁড়া ইহুদিদের দলটি আগের পাঁচটি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়েছিল।
কিন্তু এবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তারা নতুন সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করেনি। তবে বিরোধী নেতা আইজেনকটকেও সমর্থন দেয়নি দলটি।প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সাত আসন পাওয়া দলটি কোনো সংসদ সদস্যের নামই সরকার গঠনের জন্য সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম মূলত ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত আশকেনাজি অতি-গোঁড়া ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে একই ধরনের আরেকটি দল শাস প্রতিনিধিত্ব করে সেফারদি ইহুদিদের, যাদের অধিকাংশের শিকড় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায়।ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার দাবিতে দুই দলই দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর সমর্থন পেয়ে আসছে। নেতানিয়াহু এই অব্যাহতি বহাল রাখলেও আইন করে স্থায়ী রূপ দেননি। গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের সংরক্ষিত সেনাদের বারবার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের আইনপ্রণেতা আইজ্যাক পিনড্রাস বলেন, পরবর্তী যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, আমাদের প্রথম কাজ হবে তোরাহর শিক্ষার্থীদের অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি সমাধান করা।অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট মধ্যপন্থি ও মধ্য-ডানপন্থি দলগুলোকে একত্র করে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি বন্ধ করার বিষয়ে তিনি অনড়।পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের এই অবস্থানের উদ্দেশ্য নেতানিয়াহুকে চাপে রাখা এবং বোঝানো যে তাদের সমর্থন নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে নেতানিয়াহু সরকার গঠনে সফল হলে দলটি সেই সরকারে যোগ দিতেও পারে।বৃহস্পতিবার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এরপর তিনি একজন আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন।
সাধারণত কোন নেতা সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেয়েছেন, তা বিবেচনা করেই প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত নেন। সে হিসাবে আইজেনকটের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতা ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবেন।নতুন পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩। এর মধ্যে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের আসনও রয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।এদিকে ইসরায়েলের আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বেড়ে ১৯-এ দাঁড়িয়েছে। আইজেনকট চাইলে এসব দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারেন। তবে তাতে বিরোধী জোটের কিছু সমর্থককে হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।