সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে ঘিরে চলমান ভাইরাল ভিডিও বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মাদক সেবনের অভিযোগসংবলিত ভিডিও নিয়ে তদন্ত চলমান থাকলেও এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরকীয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে জৈন্তাপুরজুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ ওঠে। তবে ইন্তাজ আলী এসব ভিডিওকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফয়জুল ইসলাম ফয়জুল নামে এক ব্যক্তি ভিডিও বার্তায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুযোগে পারিবারিক সম্পর্কে অবনতি ঘটে এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
আরও পড়ুন— তদন্ত এগোলেও কাটেনি উদ্বেগ, জৈন্তাপুরে নীরবতা ভাঙছে না
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি কোনো যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি। চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীর পক্ষ থেকেও নতুন এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তদন্তকে শুধু প্রশাসনিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে ভিডিওগুলোর প্রযুক্তিগত ফরেনসিক পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা উচিত। তাদের মতে, এতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সহজ হবে এবং জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মত প্রকাশের কারণে কয়েকজন ব্যবহারকারী হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ কারণে অনেকেই মত প্রকাশে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে কয়েকজন সংবাদকর্মীর দাবি, ভাইরাল ভিডিও সংক্রান্ত সংবাদ অপসারণ বা প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ ও সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনের শাসনভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমেই আলোচিত সব অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করা সম্ভব। তদন্তের ফলাফল দ্রুত প্রকাশের মাধ্যমে জনমনে সৃষ্ট প্রশ্ন ও বিতর্কের অবসান ঘটবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
পর্ব ২ – চলমান,,