রাইজিংসিলেট- কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে বিভিন্ন সময়ে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গ্রামে মাদকের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদকাসক্ত কিছু বাবা-মা সন্তানদের অন্যের হাতে তুলে দিয়ে পাওয়া অর্থ মাদক সেবনে ব্যয় করছেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি পরিবারের নবজাতককে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরেক পরিবারের দুটি শিশুকে যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও দুই শিশুকে ৭৭ হাজার ও ২ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুদের যাদের কাছে প্রথমে দেওয়া হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরবর্তীতে আরও বেশি অর্থের বিনিময়ে অন্যত্র দিয়ে দিয়েছেন। এতে শিশুদের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, গ্রামে মাদকের কারণে সামাজিক পরিবেশের অবনতি হচ্ছে। এমনকি শিশুদের মাদকের সংস্পর্শে আনা এবং অল্প বয়সী একটি শিশুকে মাদক সেবন করানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় এক শিক্ষার্থী জানান, গ্রামের মাদকের পরিস্থিতির কারণে এলাকার পরিচয় দিতে বিব্রত হতে হয়। একই সঙ্গে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও অনেক পরিবার আতঙ্কে রয়েছে বলে তিনি জানান। নবগঠিত সিলেট মহানগর যুবদলের আংশিক কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মি ছি ল
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া এলাকায় মাদকের সমস্যা গুরুতর। মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য কয়েকটি শিশুকে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে প্রশাসন ও পরিষদের সদস্যদের নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি।
সিলেট সীমান্তে ৪৬ লাখ টাকার বেশি চোরাচালানি পণ্য জব্দ
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, এলাকাটি দরিদ্র এবং সেখানে মাদকসেবীর সংখ্যা বেশি। সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের নজরে এসেছে। বিষয়টি মোকাবিলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নোট: শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের পরিচয় বা এমন কোনো তথ্য প্রকাশ না করাই শ্রেয়, যা তাদের শনাক্ত করতে পারে।