সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন উত্তর বাগবাড়ী এলাকায় বসতবাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সহোদর ভাই ও ভাতিজার হামলায় মো. সারওয়ার হোসাইন (জখমী) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং, রোববার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে। ঘটনাস্থল উত্তর বাগবাড়ী এলাকার বাদীর নিজ বসতবাড়ি, যা কোতোয়ালী থানা থেকে আনুমানিক ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ডের বিট নং-০২ এলাকায় অবস্থিত।মামলার বাদী মো. সারওয়ার হোসাইন (পিতা: আব্দুল মালেক) অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার সহোদর ভাই জাকির হোসাইন (৫২), মারুফ হোসাইন (৪৮), মামুন হোসাইন (৪৫) এবং ভাতিজা ফয়সাল হোসাইন (২৫) দীর্ঘদিন ধরে তার মালিকানাধীন বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। এ নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগেও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৬২) করেছিলেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা ধারালো রামদা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে জাকির হোসাইন তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।
এরপর মারুফ হোসাইন লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে বাদীর ডান হাতের কব্জিতে আঘাত লেগে হাড় ভেঙে যায়। মামুন হোসাইন ধারালো রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দিলে গুরুতর কাটা জখম হয়, যাতে ছয়টি সেলাই লাগে। এছাড়া ফয়সাল হোসাইন বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তার বাম পায়ের আঙুল ভেঙে যায়।আসামিদের এলোপাতাড়ি মারধরে বাদী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা ও ছিলা জখম হয়। তার চিৎকারে প্রতিবেশী ও সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় অভিযুক্তরা পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাজনিত কারণে মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী উল্লেখ করেন।এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা নং-১৮, তারিখ ০১/১০/২০২২ রুজু করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কামাল মিয়া।বাদী বর্তমানে অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।