আবারও হুমকির মুখে পড়বে।সিলেট জেলার মধ্যে ৮টি পাথর কোয়ারির মধ্যে ৭টি পাথর কোয়ারি এলাকাই হলো সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বলা হচ্ছিল পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হবে।
সম্প্রতি পাথর কোয়ারিবেষ্টিত সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে এমপি ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ঘোষণা দেন শিগগিরই সনাতন পদ্ধতিতে সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হবে। এই পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়া হলে কোয়ারিবেষ্টিত এলাকাগুলোর পরিবেশ-প্রতিবেশ আবারও হুমকির মুখে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সচেতন মানুষজন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)র উদ্যোগে ‘সিলেট বিভাগে বেলার দায়েরকৃত মামলাভুক্ত ইস্যুসমূহের বর্তমান অবস্থা’ নিয়ে মতবিনিময় সভা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সচেতন মানুষজন।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদার তত্ত্বাবধানে সভায় সিলেট বিভাগের পরিবেশগত বিভিন্ন ইস্যুতে বেলার করা ৩২টি রিট নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা হয়।
এই পর্যালোচনায় দেখা যায় সিলেটের পরিবেশ রক্ষায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আদালতের নির্দেশনা মানছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সভায় সিলেট বিভাগের পরিবেশগত সংকটের নতুন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। বেলার বিভাগীয় কর্মকর্তা নিরুপম দে এর সঞ্চালনায় সিলেট বিভাগের চার জেলার বেলার নেটওয়ার্ক মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষ সভায় অংশগ্রহণ করেন।বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা বলেন, আদালতের নির্দেশে কাগজে কলমে পাথর কোয়ারি বন্ধ হলেও সিলেটে পাথর উত্তোলন থেমে নেই। আদালতের নির্দেশে টিলা কাটা বন্ধ করা কিন্তু সিলেটে টিলা কাটা কখনো বন্ধই হয়নি।
সিলেটের পরিবেশগত সংকট নিয়ে বেলা এখন পর্যন্ত ৩২টি রিট করেছে। এই রিটগুলোর প্রেক্ষিতে আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা ইতোমধ্যে এসেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। এখন শুনছি সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে এমপি ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাথর তোলতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও এই ধরনের ঘোষণা সরাসরি আদালত অবমাননা। এবং সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়া হলে কোয়ারিবেষ্টিত এলাকাগুলোর পরিবেশ-প্রতিবেশ আবারও হুমকির মুখে পড়বে।