রাইজিংসিলেট- প্রথমে খুঁজে না পেলেও স্বজনদের প্রচেষ্টায় দুজনের মিলন ঘটে। তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর দেখা হলো বাবা-ছেলের। জীবনের শেষ সময়ে বৃদ্ধ বয়সে ছেলেকে দেখতে বিদেশ থেকে ছুটে এসেছেন বাবা। তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। বিরল এই ঘটনার খবর শুনে, সিলেটে ছেলের বাসায় ভিড় করছেন স্থানীয়রা।
সময়টা ১৯৭৩ বা ১৯৭৪। ময়মনসিংহে স্ত্রী হাজেরা খাতুনের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মনোমলিন্যের জেরে দেশ ছাড়েন আমজত আলী। ভারতে গিয়ে বিয়ে করে শুরু করে নতুন সংসার। কেটে গেছে ৪৮ বছর।
চার যুগ পর ময়মনসিংহের জন্মভিটায় আবারও আমজত আলী। কিন্তু এখন তিনি শতবর্ষ ছুঁই ছুঁই। বড় ছেলে কালা মিয়াকে দেখার আকুতি তার। জানতে পারেন ছেলে থাকেন সিলেটে। তার দেশে আসার খবর পেয়ে বাবাকে দেখতে ময়মনসিংহে ছুটে যায়, ছেলে। পরে বাবা আজমত আলীকে সিলেটে নিজ বাসায় নিয়ে যান কালা মিয়া। ৪৮ বছর পর বাবাকে পেয়ে আবেগে আপ্লুত তিনি।
কালু মিয়া জানান, আল্লাহ্র অশেষ মেহেরবানীতে এত বছর পরে আমি আমার বাবাকে পেয়েছি। এর চেয়ে বড় সুখ আর আমার জীবনে নেই। বাকি জীবন আমি বাবাকে নিয়ে কাটিয়ে দিতে চাই।
কালা মিয়ার পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, ৪৮ বছর পর সে তার বাবাকে ফিরে পেয়েছে। সে অনেক খুশি। তার খুশিতে আমরাও অনেক খুশি।
পিতা আমজত আলী বলেন, আমি প্রথমে আমার ছেলেকে খুঁজে পাইনি। আমার শালীর সঙ্গে দেখা করি। সে জানায় আমার ছেলে সিলেটে রয়েছে। এরপর তাকে ফোন দেয়ার পরে আমরা দেখা করি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। আজমত আলীকে দেখতে বাসাটিতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।